রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদের স্পিকার দেশে ফিরলেই তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন বলে বঙ্গভবনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
রাষ্ট্রপতির দপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি পদত্যাগের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে বঙ্গভবনের কর্মকর্তাদেরও প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং দেশীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বর্তমানে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থানরত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশে ফেরার পরই রাষ্ট্রপতি তার স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে পারেন। স্পিকারের নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার সম্ভাবনার কথাও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের বিষয়ে মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন।
বঙ্গভবনের একটি সূত্রের দাবি, তিনি কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন যে খুব শিগগিরই বঙ্গভবনের দায়িত্ব থেকে বিদায় নিতে পারেন। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এদিকে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি এখনো পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেননি। তিনি বলেন, পদত্যাগ করলে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো হবে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র পাঠিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন।
আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা তীব্র হলেও, পদত্যাগপত্র জমা না দেওয়া পর্যন্ত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। ফলে স্পিকারের দেশে ফেরা এবং পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার দিকেই এখন সবার নজর।
আরু/


