ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত অবসানের মার্কিন প্রচেষ্টায় ওমান বাধা সৃষ্টি করলে দেশটির ওপর বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ওমান যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনায় দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ট্রাম্পের নতুন হুমকি তাই ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা একটি দেশের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং একটি বৃহত্তর সমঝোতায় পৌঁছানোর আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় ছিল। জুনে নির্ধারিত ৬০ দিনের কূটনৈতিক সময়সীমা সোমবার শেষ হলেও কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সমঝোতার আওতায় যুদ্ধ বন্ধ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চূড়ান্ত সমাধানের পথ তৈরি করার চেষ্টা চলছিল।
ট্রাম্প একই সাক্ষাৎকারে ইরানকে ‘আত্মসমর্পণ’ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই তার প্রধান লক্ষ্য। তবে সমঝোতায় পৌঁছাতে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নেই বলেও জানান।
ট্রাম্পের হুমকির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয় হলো কৌশলগত হরমুজ প্রণালি। ইরান ও ওমান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা করছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; সংঘাতের আগে বিশ্বের তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যেত। বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনার লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় সচল করা। কিন্তু এই উদ্যোগ যদি ওয়াশিংটনের কৌশলগত অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ওমানের সম্পর্ক আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।
ওমানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এমন বক্তব্য অবশ্য নতুন নয়। এর আগে মে মাসেও হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার সময় তিনি ওমানকে ‘আচরণ ঠিক না করলে’ বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তখনও ওমান ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের মন্তব্যটি সামনে আসে।
তৎকালীন সময়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের হুমকিকে ‘বিপজ্জনক’ ও ‘বুলিং’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ওমানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার কথা তুলে ধরেছিল।
বিশ্লেষণাত্মকভাবে দেখলে, ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ১৭ আগস্ট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আগের তুলনায় ব্যাপকভাবে কমে যায়। ফলে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক চাপ, ওমানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল-এই তিনটি বিষয় এখন মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকির পর কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ে কি না, সেটিই এখন নজরের বিষয়।
সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, এপি
আরু|



