মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা নবম দফায় ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ হামলায় দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলার পর বুশেহর প্রদেশের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনাও ঘটেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি, তাসনিম নিউজ ও ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তাসনিম নিউজ স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বুশেহর প্রদেশের দাশতি কাউন্টির প্রশাসনিক কেন্দ্র খোরমোজ এলাকায় মার্কিন হামলা হয়েছে। হামলার পর শহরের কয়েকটি অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে আইআরআইবি জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমের খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর ও ইমাম খোমেনি বন্দর এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পাশাপাশি হরমোজগান প্রদেশের সিরিক ও জাস্ক এবং বুশেহরের খোরমোজ এলাকার কাছেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
শুধু দক্ষিণাঞ্চল নয়, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ শহরের কাছেও তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে আইআরআইবি। অন্যদিকে ফার্স নিউজ জানিয়েছে, সিস্তান ও বেলুচেস্তান প্রদেশের কোনারাক ও চাবাহার এলাকায় সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি বলেন, সর্বশেষ হামলায় আবারও ইরানের দক্ষিণ উপকূলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাবরিজে বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত হলে সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর এই প্রথম উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ওই শহর হামলার মুখে পড়ল।
এর আগে গত দুই দিনে তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, সর্বশেষ অভিযানের লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের ওপর হামলায় ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এক মাস আগে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, এর জবাবে লোরেস্তান প্রদেশ থেকে অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
চলমান সংঘাতে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল।
আরু/


