দিনের পর দিন দীর্ঘ মিটিং, হঠাৎ জরুরি কল এবং গভীর রাত পর্যন্ত কাজের চাপ। তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে কাজ করা অনেক মানুষের জন্য এগুলো খুবই পরিচিত বিষয়। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও মানসিক ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে ভারতের এক তরুণী সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আইটির চাকরি ছেড়ে এখন তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
এই তরুণীর নাম ক্যাথি। করপোরেট চাকরির ব্যস্ত ও চাপপূর্ণ জীবন ছেড়ে তিনি নিজের পছন্দের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে অটোরিকশা চালিয়ে তিনি প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার রুপি আয় করছেন। একই সঙ্গে আগের চেয়ে অনেক বেশি মানসিক শান্তিতে আছেন বলেও জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইটি খাতে কাজ করার সময় ক্যাথিকে দীর্ঘ সময় অফিসের কাজ করতে হতো। কাজের চাপ এত বেশি ছিল যে ব্যক্তিগত জীবন ও চাকরির মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ধীরে ধীরে তিনি মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এরপর নিজের স্বাধীনতা ও স্বস্তির জন্য চাকরি ছেড়ে অটোরিকশা চালানো শুরু করেন।
শুরুতে অনেকেই তার এই সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছিলেন। তবে এখন তিনি নিজের সুবিধামতো সময় কাজ করতে পারেন এবং জীবনকে আরও ভালোভাবে উপভোগ করছেন। তার মতে, আগের চেয়ে তিনি এখন অনেক বেশি সুখী ও স্বস্তিতে আছেন।
ক্যাথির এই গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তার সাহসের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, অর্থের পাশাপাশি মানসিক শান্তিও জীবনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে একজন আইটি কর্মী মন্তব্য করেন, ১৮ বছর ধরে এই খাতে কাজ করার পরও তাকে অপ্রয়োজনীয় মিটিং ও দীর্ঘ কলের মুখোমুখি হতে হয়। এসব কারণে অনেক কর্মী মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।
তবে কেউ কেউ মনে করেন, ক্যাথি হয়তো চাকরি করার সময় ভালো পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন। তাই তিনি নতুন পথে হাঁটার সাহস পেয়েছেন।
আরেকজন মন্তব্য করেন, শেষ পর্যন্ত সবাই শান্তিপূর্ণ জীবন চায়। তাই নিজের সুখের জন্য ক্যাথি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা প্রশংসার যোগ্য।
এদিকে একজন ব্যবহারকারী উত্তর প্রদেশের আরেক ব্যক্তির গল্প শেয়ার করেছেন। তিনি প্রায় ১৫ বছর আগে করপোরেট চাকরি ছেড়ে অটোরিকশা চালানো শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি পাঁচটি ট্রাকের মালিক হন এবং কয়েক কোটি রুপির সম্পদ গড়ে তোলেন।
সূত্র: এনডিটিভি



