নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে মাছ, মুরগি ও ডিমের দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় চাপ হয়ে আছে। কোথাও ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১৯০-২০০ টাকা, কোথাও আবার তুলনামূলক কম। একইভাবে ফার্মের ডিমের ডজন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও ২০০ টাকার নিচে পছন্দের মাছ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে অনেক এলাকায়।
সাম্প্রতিক বাজার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অঞ্চলভেদে দামের পার্থক্য থাকলেও আমিষজাতীয় এসব পণ্যের বাজারে অস্বস্তি মোটামুটি সারাদেশেই রয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে শুক্রবারের বাজারচিত্রে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি প্রায় ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম রয়েছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে।
ডিমের ক্ষেত্রেও বাজারভেদে পার্থক্য রয়েছে। সাদা ডিমের ডজন প্রায় ১৩০ টাকা, বাদামি ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং পাড়া-মহল্লার দোকানে তা ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বাজারে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দামে কিছুটা ওঠানামা দেখা গেলেও মাছ ও মাংসের দামে বড় ধরনের স্বস্তি আসেনি।
মাছের বাজারে তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০-২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০-৪২০ টাকা, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা এবং ট্যাংরা প্রায় ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম মানভেদে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত। দেশি কই, শোল, বাইনসহ বিভিন্ন দেশি মাছের দাম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কিংবা তারও বেশি। বড় আকারের ইলিশের দাম আবার ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, পাইকারি বাজারের সরবরাহের ওপর নির্ভর করে মাছের দাম প্রতিদিনই ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করছে।
বন্দরনগর চট্টগ্রামের বাজারেও মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে অস্বস্তি দেখা গেছে। সাম্প্রতিক বাজার প্রতিবেদনে সেখানে ২০০ টাকার নিচে মাছ ও ব্রয়লার মুরগি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ার কথা উঠে এসেছে। ফার্মের ডিমের ডজনও প্রায় ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।
টানা বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে উৎপাদন ও সরবরাহ কমে যাওয়াকে ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সময়ে ভোক্তাদের অভিযোগ, সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিয়ে কোনো কোনো ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন।
চট্টগ্রামের বাজারে জুলাইয়ের শেষ দিকেও সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজশাহীর বাজারচিত্র রাজধানীর তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকা, সোনালি ২৫০-২৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি প্রায় ৫৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। ফার্মের লাল ডিম প্রতি হালি প্রায় ৪৮ টাকা এবং সাদা ডিম ৪৪ টাকা দরে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।
মাছের বাজারে তেলাপিয়া ১৭০-২১০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২০০ টাকা, রুই ২৭০-৩০০ টাকা, কাতলা ৩০০-৩৫০ টাকা এবং চাষের কৈ ২০০-২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। তবে দেশি কৈ ও দেশি শিংয়ের মতো মাছের দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
খুলনার বাজারেও অঞ্চলভেদে দামের পার্থক্য থাকলেও মাছের বাজারে অস্বস্তি রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়ার তথ্য এসেছে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম কিছু সময় স্থিতিশীল থাকার কথাও জানা গেছে।
খুলনার বাজারের সাম্প্রতিক আরেকটি চিত্রে ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকা, সোনালি ২৭০-২৮০ টাকা, রুই ২৫০-২৮০ টাকা, কাতলা ২৪০-২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ও পাঙাশ ১৮০-২০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৬০০-৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকায় ডিমের দাম ডজনপ্রতি প্রায় ১০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা কমেছিল। কিন্তু এরপর আবার কিছু বাজারে দাম বাড়ার খবর এসেছে। ফলে একদিকে দাম কমার খবর মিললেও অন্যদিকে বাজারে স্থায়ী স্বস্তি ফিরছে না।
এ কারণেই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেটে চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে মাছ, মুরগি ও ডিম যেগুলো তুলনামূলকভাবে কম দামে প্রাণিজ আমিষের প্রধান উৎস এসব পণ্যের দাম বাড়লে পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সরাসরি প্রভাব পড়ে।
ক্রেতারা বলছেন, বাজারে কোনো একটি পণ্যের দাম সামান্য কমলেও অন্য কোনো পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ফলে মোট বাজার খরচ কমছে না। মাছ কিনতে গেলে ২০০-২৫০ টাকার নিচে ভালো বিকল্প পাওয়া যাচ্ছে না, মুরগির দামও অনেক পরিবারের বাজেটের তুলনায় বেশি। ডিমের দামও কয়েক দফা ওঠানামা করায় মাসিক খাদ্যব্যয় হিসাবের বাইরে চলে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, সরবরাহ, পাইকারি বাজারের দর, পরিবহন ব্যয় এবং আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে মাছ-মুরগি-ডিমের দাম পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে মাছের দাম একই দিনে সকাল ও বিকেলের মধ্যেও কিছুটা ওঠানামা করতে পারে।
সব মিলিয়ে রাজধানী থেকে বিভাগীয় শহর বিভিন্ন বাজারের দরে পার্থক্য থাকলেও মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। কোনো এলাকায় দাম কিছুটা কম, আবার কোথাও একই পণ্য তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে আয়-ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।
বাজারে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দাম কমার সাময়িক স্বস্তি কি স্থায়ী হবে, নাকি কয়েক দিনের মধ্যেই আবার বাড়বে মাছ, মুরগি ও ডিমের দাম?
আরু|



