সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মুখ্য সচিব বলেন, ‘পে-স্কেল বিবেচনাধীন আছে এবং সরকারের কমিটমেন্ট আছে। এটা আমরা বাস্তবায়ন করবো। এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। যে কোনো মুহূর্তে পে-স্কেল ঘোষণা হতে পারে।’
নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা ও প্রত্যাশা রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে নবম জাতীয় পে-স্কেলের বাস্তবায়ন পদ্ধতি, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য প্রভাব এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনার কথা উঠে এসেছে।
মূল্যস্ফীতির চাপের বিষয়টিও বিবেচনায়
পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে কি না এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মুখ্য সচিব বলেন, বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় বছর পরপর পে-স্কেল হওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘ সময় নতুন পে-স্কেল না হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় করতে চাপের মধ্যে রয়েছেন।
মুখ্য সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো প্রয়োজন। এতে সাধারণ মানুষের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে, তবে দীর্ঘদিন পর বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের বিষয়টিও সরকার বিবেচনায় নিয়েছে।
এর আগে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মূল বেতন ও বিভিন্ন ভাতা ধাপে ধাপে কার্যকর করার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছিল।
বাজার পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকট
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মুখ্য সচিব। তিনি বলেন, বাজারে কিছু সমস্যা রয়েছে এবং সরকার তা সমাধানের চেষ্টা করছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের কারণে উৎপাদন চেইনে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় সরকার বহুমুখী সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এমনকি চীন থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ক্ষেত্রে কিছু দুর্ঘটনার কারণেও সংকট তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে মুখ্য সচিব বলেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং আশা করা হচ্ছে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
অর্থনীতিকে বড় চ্যালেঞ্জ বললেন মুখ্য সচিব
সরকারের ছয় মাসের প্রধান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাইলে মুখ্য সচিব অর্থনীতিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য, ব্যাংক খাতে নানা অনিয়ম ও অর্থপাচারের কারণে অর্থনীতি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসা খাতকে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সময় লাগবে। তবে সরকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।
ছয় মাসে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ
সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে মুখ্য সচিব বলেন, সরকার কিছু অগ্রাধিকার প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো উদ্যোগ রয়েছে।
এ ছাড়া খাল খনন এবং কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ ও সুদ মওকুফের মতো কার্যক্রমও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মুখ্য সচিবের মতে, সরকারের ছয় মাসের সময়কে মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট সময় বলা যায় না। সরকার এখনো পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
দুই সচিবের মেয়াদ নিয়ে অপেক্ষার পরামর্শ
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়েও সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন।
এ বিষয়ে মুখ্য সচিব বলেন, ‘এটা একটু অপেক্ষা করেন, একটু দেখেন। ২৪ ঘণ্টা পরে হয়তো জানতে পারবেন।’
দুই সচিবের মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে সাংবাদিকদের অপেক্ষা করতে বলেন।
এ ছাড়া সরকারের ছয় মাসের প্রশাসনিক কর্মকান্ডে মন্ত্রীদের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট কি না জানতে চাইলে মুখ্য সচিব বলেন, তিনি সন্তুষ্ট।
সব মিলিয়ে, নতুন পে-স্কেল নিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যেকোনো সময় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে_মুখ্য সচিবের বক্তব্যে এমনই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নজর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সরকারি প্রজ্ঞাপনের দিকে।
আরু|



