দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রিসভা সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি প্রস্তাবটি নিয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই বেতন কাঠামো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে নতুন পে-স্কেলের বাস্তবায়ন কাঠামো ও বেতন বৃদ্ধির হার সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে। তবে সচিব কমিটি বাস্তবায়নের ধাপ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি; এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
প্রস্তাবিত কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর আলোচনা হয়েছে। সব গ্রেডে সমান হারে বেতন না বাড়িয়ে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে সচিব কমিটি। মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাসের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
খসড়া পরিকল্পনায় মূল বেতন ও ভাতা আলাদাভাবে কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রথম পর্যায়ে মূল বেতন বাড়ানো এবং পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন ভাতা ও আর্থিক সুবিধা পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এটি এক ধাপে নাকি একাধিক ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভাই নেবে।
সরকার চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের পরিকল্পনা করেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও এর আগে ১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছিলেন।
পে কমিশনের সুপারিশে ছিল আরও বড় বেতন বৃদ্ধি
এর আগে নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করে। কমিশনের প্রস্তাবে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী গ্রেডভেদে প্রায় ১০০ শতাংশের বেশি বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবের কথাও উঠে এসেছে। তবে সচিব কমিটির পর্যালোচনায় সেই সুপারিশের কিছু অংশ পরিবর্তন বা সীমিত করার বিষয়টি সামনে এসেছে।
কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হবে। একটি প্রতিবেদনে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রায় এক দশক পর নতুন বেতন কাঠামো
২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো চালু হয়নি। এই সময়ে সরকারি চাকরিজীবীরা নিয়মিত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পেলেও মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন পে-স্কেলের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। পরে কমিশন সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দেয় এবং সেখান থেকেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এখন নজর মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে
নবম পে-স্কেলের খসড়া এখন সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের শেষ ধাপে। মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব উপস্থাপনের পর সেখানে বেতন বৃদ্ধির হার, বাস্তবায়নের ধাপ, ভাতা এবং কার্যকর হওয়ার সময়সূচিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হতে পারে।
সবকিছু ঠিক থাকলে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল এখন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরু|



