সুমন চন্দ্র দে, মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
মহেশখালী উপজেলাধীন শাপলাপুর ইউনিয়নের জে. এম.ঘাট আর্দশ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক জেলার চিহ্নিত দুর্নীতির বরপুত্র চকরিয়ার কাইছার লিটনের সহায়তায় অত্র স্কুলে না এসে বেতন-ভাতা তুলার অভিযোগ উঠেছে অবৈধ ভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) রাশেদুল হাসান ফরাজির বিরুদ্ধে। এমনকি ফারাজির মূল বেতনের অধিকাংশ প্রধান শিক্ষকের পকেটে যায় বলে জানা যায়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়দের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তথ্য মতে গোলাম কাদের মেম্বার(সাবেক) ২০০৪ সালে এই স্কুলের সভাপতি ছিল কিন্তু সে জীবিত থাকা অবস্থায় তাকে মৃত বানিয়ে বিগত ২০০৪ সালে বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফরিদুল আলমকে সভাপতি করেন তৎকালীন প্রধান শিক্ষক।
জানা যায়,১৯৯৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হলেও ২০২২ সালের ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়।প্রতিষ্ঠানকালীন পর থেকে কর্মরত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে তার শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ৯ জন শিক্ষককে অবৈধ ভাবে নিয়োগ দেখান লিটন। তারমধ্যে ফারাজি একজন।
এমপিওভুক্ত হওয়ার পর ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান কাইছার লিটন। তারপর থেকে শুরু হয় লিটনের কেরামতি। লিটন তার উপরি মহলের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শিক্ষকদের এমপিওর ফাইল প্রসেসিং শুরু করে এবং তাতে নাম দেয় রাশেদুল হাসান ফারাজীর। এমপিও ভুক্তির জন্য ২০০৪ সাল ফরাজিকে নিয়োগ দেখালেও প্রতিষ্ঠানে আসেন নি তিনি।
শিক্ষক হাজিরার তথ্যমতে ২০২০, ২০২১,২০২২ এবং ২০২৩ সালে ফারাজির স্বাক্ষর থাকলেও তিনি তখন প্রতিষ্ঠানে আসেন নি বলে জানান এক শিক্ষক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক লিটনকে টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করে ফারাজি মাসের শেষে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে যেতেন। পরবর্তীতে এটা নিয়ে সমালোচনা চললে লিটন ২০২৩ সালের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএড ছুটি দেখান। কিন্তু ঐ সময়ের মধ্যে বিএড’র আবেদনের কোন সময় ছিলনা বলে জানান বিএড ধারী এক শিক্ষক।
উক্ত প্রতিষ্ঠানের আরেক শিক্ষক জানান, নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে ফরাজি স্কুলে আসেনি। ফরাজির প্রতিমাসের বেতন লিটন নিয়ে নেয়। এমপিও আসার পর সমালোচনার মুখে পড়ে ফরাজিকে অবৈধভাবে বিএড ছুটি দেখায় প্রধান শিক্ষক। এমনকি করোনা কালীন স্কুলের পাঁচ লক্ষ টাকা একাউন্টে না রেখে খেয়ে পেলেন লিটন।
এ বিষয়ে ফারাজির সাথে কথা বললে তিনি সাংবাদিক পরিচয় দিলে পালতু কোথাকার বলে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে জানতে অফিস সহকারী সৈয়দ নূরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ফারাজি স্যার নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসেন। বিএড’র ছুটিতে আছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি মাঝেমধ্যে আসেন বলে জানান।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক কাইছার লিটনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ২০২২ ইং সালের জুলাই থেকে ২০২৩ ইং সালের জুন পর্যন্ত ফরাজি বিএড ছুটিতে রয়েছেন। কিন্তু শিক্ষক হাজিরায় ২০২৩ ইং সালে ফেব্রুয়ারী /মার্চে ফরাজির স্বাক্ষর দেখা যায়।
২০২৩ সালে খাতায় তার স্বাক্ষর থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি কোন স্বাক্ষর নাই বলে দাবি করেন এবং ফরাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে জানান। অথচ শিক্ষক হাজিরায় ২০২২ এবং ২০২৩ সালে ফরাজির স্বাক্ষর রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ফরিদুল আলমের সাথে কথা বললে তাঁর প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যের সাথে কোন মিল পাওয়া যায়নি। তিনি ফরাজির বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে প্রতিষ্ঠানে মাঝেমধ্যে আসে বলে দাবি করেন। কিন্তু মাঝেমধ্যে আসার বিষয়টি যৌক্তিক কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি। এদিকে প্রধান শিক্ষকের দাবি ছুটিতে, অন্যদিকে সভাপতির দাবি ওনি প্রতিষ্ঠানে আসেন এমন ভিন্নতা কেন প্রশ্ন করলে তিনি ছুটির বিষয়টি অবগত নয় বলে জানান তিনি।
আর করোনা কালীন ৫,০০,০০০ টাকার বিষয়টি জানতে চাইলে,তিনি এসব মোবাইলে বলতে পারবেননা এবং প্রতিবেদককে দেখা করার অনুরোধ জানান। প্রতিবেদক দেখা করতে নারাজ হলে তিনি আর কোন উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
এইভাবে সরকারি টাকা হরিলুট করে বর্তমান সভাপতি ফরিদুল আলম ও বর্তমান প্রধান শিক্ষক কায়চার লিটন যোগসাজশ করে ভোগ করার অভিযোগ রয়েছে।
এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহেদুর রহমান জানান,এ বিষয়ে আমি অবগত নয়।আমি আগামীকাল স্কুল পরিদর্শনে যাব,সব বিষয় খোঁজ নিব।


