জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কৃষিজমির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন গুরুতর ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
সংস্থাটির মতে, টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষিতে দ্রুত বিনিয়োগ না করলে ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষিজমি হ্রাস, লবণাক্ততা, বন্যা, খরা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে খাদ্য উৎপাদনের ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে সার, জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিও উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এদিকে চলতি বছর অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। এতে চাল উৎপাদনে ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ ফলনশীল ও জলবায়ু-সহনশীল ফসলের জাত সম্প্রসারণ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং খাদ্য অপচয় কমানোর উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সেবা বাড়ানোরও সুপারিশ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে খাদ্যের প্রাপ্যতা, মূল্য স্থিতিশীলতা এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত নীতি ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
আরু/


