জহির সিকদার, আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতাঃ
আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সমযসীমা ছিল ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশনের সময়সীমা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (আশুগঞ্জ-সরাইল) আসনে জামাই-শ্বশুরসহ মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১১ জন।
জাতীয় নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে যারা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃমঈনুউদ্দিন
ও জিয়াউল হক মৃধা, জাকের পার্টির জহিরুল ইসলাম (জুয়েল), আওয়ামী লীগে র মোঃ
শাহজাহান আলম, ইসলামী ঐক্যজোটের আবুল হাসানাত, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) রাজ্জাক হোসেন, তৃণমূল বিএনপির মাইনুল হাসান, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পাটির কাজী মাসুদ আহমেদ, জাতীয় পার্টির রেজাউল ইসলাম ভূঞা ও আবদুল হামিদ এবং তরিকত ফেডারেশনের ছৈয়দ জাফরুল কদ্দুছ।
এরমধ্যে সবচেয়ে চমকের বিষয় হলো শ্বশুর-জামাতার মনোনয়ন দাখিল। তারা দুজন হলেন
স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং সাবেক দুইবারের এমপি জিয়াউল হক মৃধা ও জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব দলীয় প্রার্থী রেজাউল ইসলাম ভূঞা। এ দুজনের মধ্যে জিয়াউল হক মৃধা সম্পর্কে রেজাউল ইসলাম ভূঞার আপন শ্বশুর।
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে জিয়াউল হক মৃধার মেয়ে জামাই রেজাউল ইসলাম ভূঁঞা মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
এ কারণে তার শ্বশুর ও তৎকালীন জাপার ভাইস প্রেসিডেন্ট সাংসদ জিয়াউল হক মৃধার কর্মী-সমর্থকরা ঢাকা-কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। জিয়াউল হক এ আসনে পরপর দুবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে রেজাউল মনোনয়ন পাওয়ায় এ আসনে জাপার প্রার্থিতা নিয়ে জামাই-শ্বশুর দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে। চলে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়। অবশ্য ঐ নির্বাচনে তাদের দুজনের কেউ পাশ করেনী।
জানা যায়,জিয়াউল হক মৃধা রওশন এরশাদপন্থি এবং দলের বহিষ্কৃত নেতা। রওশনপন্থি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক। তাই দলীয় মনোনয়ন পাননি জিয়াউল হক মৃধা। এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মৃধার মেয়ের জামাই রেজাউল ইসলাম ভূঞা মনোনয়ন জমা দিলেও একই দল থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন আব্দুল হামিদ ভাসানী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঞা বলেন, ‘এ আসনে আব্দুল হামিদও আমাদের দল থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। যেমন গত নির্বাচনে বিএনপি একাধিক প্রার্থী জমা দিয়েছিলেন। যদি এরমধ্যে কেউ বাদ যায়! মূলত ওই আসনে আব্দুল হামিদ নির্বাচন করবেন।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক দুইবারের এমপি জিয়াউল হক মৃধা বলেন, ‘সবশেষ উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আমি রওশনপন্থি, (নির্বাচনে) রওশনপন্থিরা সবাই আছেন। জাতীয় পার্টি থেকে কে নির্বাচন করলো বা মনোনয়ন পেলো তা আমার দেখার দরকার নেই।
তবে মজার ব্যাপার হল,যাচাই বাছাইয়ে জামাই -শ্বশুর দুজনের দাখিল করা মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। এছাড়া উক্ত আসনে মনোনয়ন দাখিল করা সকল প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়ে কে থাকে আর কে থাকবেনা সেটি এখন এলাকায় মুখরোচক আলোচনায় পরিনত হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬টি আসনে মোট ৫৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।
তন্মধ্যে ০৬ টি আসন থেকে আওয়ামী লীগের ৪ বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ১০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল
করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহগীর আলম।
জেলা প্রশাসক ও রিটানিং কর্মকর্তা মোঃ শাহগীর আলম জানান, যাদের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তারা নির্বাচন কমিশনে ৫ থেকে ৯ ডিসেম্বর মধ্যে আপিল করতে পারবেন।


