মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক প্রতিনিধ:
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ডাকাতির ঘটনায় লুন্ঠিত হওয়া মালামাল ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র-সস্ত্রসহ ৮ জন ডাকাত এবং লুন্ঠিত মালামাল হেফাজতে রাখার দায়ে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে সিংগাইর থানা পুলিশ।
বুধবার(২৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিংগাইর থানার ওসি সৈয়দ মিজানুর ইসলাম।
আটককৃতরা হলেন-ঢাকা জেলার ধামরাই থানার চৌঠাইল দক্ষিনপাড়ার মৃত.হেলাল ওরফে ইলা মিয়ার ছেলে সেলিম মিয়া ওরফে সলিম খান (৪৮), খলিল মিয়া (৪০), সিংগাইর উপজেলার পূর্ব ভাকুম গ্রামের নুরুল হকের ছেলে মালেক (২৬) ও আলেক হোসেন (২১),উত্তর জামশা গ্রামের শাহাদৎ হোসেনের মেয়ে সুমা আক্তার ওরফে সুমী (২৫),চর দূর্গাপুর গ্রামের মৃত.ইউনুছ মিয়ার ছেলে শামসুল ইসলাম (২৮),পূর্বভাকুম গ্রামের মৃত.পরান ফকিরের ছেলে সুমন ফকির(২৫), কহিলাতলী গ্রামের মৃত.ফজল শেখের ছেলে মোক্তার হোসেন (৩৩), চরদূর্গাপুর গ্রামের রজ্জব আলীর ছেলে সজিব মিয়া (২২) ও রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার চর দৌলতপুর গ্রামের মৃত.মোজাহার মোল্লার ছেলে আয়ূব ওরফে আয়ূব মোল্লা (৩৪)।
ওসি সৈয়দ মিজানুর ইসলাম জানান, ১৯ নভেম্বর দিবাগত রাত ৩ টার দিকে অজ্ঞাতনাম ৯-১০ জন ডাকাত উপজেলা ধল্লা ইউনিয়নের গাজিন্দা (হঠাৎপাড়া) গ্রামের সৌদি প্রবাসী জুয়েল রানার বসতবাড়ির একতলা বিল্ডিংয়ের পিছনের (উত্তরপাশের) ওয়ালে বাঁশের মই দিয়ে ছাদে উঠে চিলেকোঠার দরজা কৌশলে খুলে ভিতরে প্রবেশ করে। পরে কাঠের মূল দরজা ভেঙ্গে রুমে প্রবেশ করে প্রবাসী জুয়েল রানার স্ত্রী মনি বেগম, ভাই সোহেল রানা, মা জাহানারা বেগম, ভাগিনী আশা মনিদেরকে দেশীয় ধারালো বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে মারপিট করে গরুতর জখম করে। ওই সময় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ৩৩ ভরি ১৪ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার, ২০ ভরি ওজনের ০৭ জোড়া রূপার নূপুর, নগদ টাকা, সৌদি রিয়াল, মোবাইল ফোন ও টিভিসহ প্রায় ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৫’শত টাকার মালামাল লুন্ঠন করে নিয়ে যায়। বাড়ির লোকজনের ফোনে প্রতিবেশী ফারুক এগিয়ে আসলে বাহিরে থাকা ৩-৪ জন ডাকাত তাকে এলোপাথারী কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে লন্ঠিত মালামালসহ যে যার মত পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় প্রবাসী জুয়েল রানার স্ত্রী মনি বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৯-১০ জন ডাকাতের বিরুদ্ধে সিংগাইর থানায় মামলা দায়ের করেন।
এরপর পুলিশের একটি চৌকশ অভিযানিক টিম উক্ত ক্লু-লেস ডাকাতি মামলার তথ্য ও রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করেন। অবশেষে মামলা হুজুর ৩দিন পর গত ২৪ নভেম্বর সিংগাইর থানার ধল্লা ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির সাথে সম্পৃক্ত দুর্ধর্ষ ডাকাত এবং আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য সেলিম মিয়া ওরফে সলিম খানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে পুলিশ রিমান্ডে তার দেয়াা তথ্যের ভিত্তিতে এ মামলার সাথে সম্পৃক্ত ডাকাত দলের সক্রিয় অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারপূর্বক লুন্ঠিত মালামালের আংশিক উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত ডাকাতদের কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যান্য পলাতক ডাকাতদের গ্রেফতার ও লণ্ঠিত অবশিষ্ট্য মালামাল উদ্ধারের লক্ষ্যে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃত ডাকাত সেলিম মিয়া ওরফে সলিম খান, খলিল মিয়া, সামসুল ইসলাম, মোক্তার হোসেন ও সজিব মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন আছে।


