২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামে নিহত ছাত্রদল নেতা মো. ওয়াসিম আকরাম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক ব্যক্তি এখন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নাম জিয়া রনি। তবে পুলিশের নথিতে তাঁর পরিচয় একেএম জিয়াউদ্দিন হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পুলিশ ও আদালতের একাধিক নথির বরাতে বলা হয়েছে, জিয়া রনি ও একেএম জিয়াউদ্দিন একই ব্যক্তি। ওয়াসিম হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ২৩ জুন তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালত থেকে জামিন পান তিনি।
চলতি বছরের ১৪ মে ঘোষিত এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটিতে জিয়া রনিকে যুগ্ম আহ্বায়কের পদ দেওয়া হয়। দলটির প্রকাশিত কমিটির তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন ছাত্রদল নেতা মো. ওয়াসিম আকরাম। বারকোড রেস্টুরেন্টের সামনে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় একই বছরের ১৮ আগস্ট ওয়াসিমের মা মোসাম্মৎ জোসনা আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ১৮।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ জুন চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাঁরা হলেন আশরাফ চৌধুরী মুন্না, আরিফ শওকত, সজিব হাসাম ও একেএম জিয়াউদ্দিন। তাঁদের মধ্যে প্রথম তিনজন এজাহারভুক্ত আসামি হলেও প্রাথমিক এজাহারে জিয়াউদ্দিনের নাম ছিল না। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশের চালান নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশের প্রতিবেদনে জিয়াউদ্দিনকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর ২৬ জুন তাঁকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।
ওই আবেদনে তাঁর পরিচয় উল্লেখ করে বলা হয়, তিনি চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার ফরিদারপাড়া এলাকার নজু মিয়া মহলের আবুল কালাম সামশুদ্দিনের ছেলে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই মুরাদপুরে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এ সময় গুলিবর্ষণ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান ওয়াসিম আকরাম।
তবে এই হত্যাকাণ্ডে একেএম জিয়াউদ্দিনের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক নুরুজ্জামানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ জুলাই ফৌজদারি বিবিধ মামলা নম্বর ৪৫২৫/২৫-এর আদেশে জিয়াউদ্দিনের জামিন মঞ্জুর হয়। পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে জামিন দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি মামলায় নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মামলার অপর আসামিদের জামিনের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা নুরুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে তাঁর কাছে তথ্য নেই। আদালতের জামিনসংক্রান্ত কাগজপত্র তাঁদের কাছে আসে না।
একদিকে জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের হত্যা মামলা, অন্যদিকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ে নতুন দায়িত্ব পাওয়া, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এবং জিয়াউদ্দিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
আরু|



