এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে বড় সুযোগ। একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়া থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে সম্পূরক পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে পারে এ পরীক্ষা।
আর এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা জানিয়ে আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারে শিক্ষা বোর্ড।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সম্পূরক পরীক্ষায় দুইয়ের বেশি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন না। তবে এবার সুযোগের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে আগের দুই বছরের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্যও। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে এবারের সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সম্পূরক পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। বুধবার বোর্ডের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। সেখানে পরীক্ষার সময়সূচি, ফরম পূরণসহ অন্যান্য নিয়মকানুন বিস্তারিত জানানো হবে।
বোর্ড সূত্র আরও জানায়, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে। তবে এজন্য তাদের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অথবা নিবন্ধন থাকতে হবে। এ শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরপর দুই কিংবা তিন বছর অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
এদিকে, সম্পূরক পরীক্ষার ফরম পূরণ আগামী ৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ফরম পূরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১ থেকে ২০ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূরক পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানান। শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতেই সরকার এ উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অন্যদিকে, অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২ ডিসেম্বর থেকে সম্পূরক পরীক্ষা শুরু করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি, ফরম পূরণ ও অংশগ্রহণের শর্তাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর।
আরু|



