তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি প্রথম সভা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) পর্যন্ত সভার নির্দিষ্ট সময়সূচি নিশ্চিত না হওয়ায় মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
নতুন মজুরি কাঠামোর দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবারও গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও রাজধানীর মিরপুরে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ও কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান শেখ আশফাকুর রহমান মঙ্গলবার জানিয়েছেন, শিগগিরই বোর্ডের প্রথম সভা আহ্বান করা হবে। আগের মজুরি বোর্ডের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপন জারির ৪৫ দিন পর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে ছয় থেকে সাত মাস সময় লেগেছিল। তবে এবার দ্রুততম সময়ে কার্যক্রম শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি আনোয়ার হোসাইন ও বাবুল আক্তারও দ্রুত সভা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে টানা বৈঠকে বসতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাবুল আক্তার।
শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে মাসিক ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। অন্যদিকে, শ্রমিক প্রতিনিধিরা নতুন মজুরি কাঠামো জানুয়ারি থেকে কার্যকরের প্রত্যাশা করছেন।
এদিকে, গত সোমবার সচিবালয়ে পোশাকশিল্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই যৌক্তিক মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ছয় সদস্যের বোর্ড গঠন করে। বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে। এতে মালিক, শ্রমিক ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের পাশাপাশি তৈরি পোশাকশিল্পের দুই প্রতিনিধিও রয়েছেন।
২০২৩ সালের নভেম্বরে সর্বশেষ পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এবার নতুন মজুরি কাঠামো কত হবে, আর কবে নাগাদ তা কার্যকর হবে সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন লাখো পোশাকশ্রমিক।
আরু|



