পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে দেওয়া বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে অবিলম্বে আইজিপিকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে দলটি।
সোমবার রাতে এনসিপির দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করবে, আইজিপির এমন বক্তব্য আইনের শাসন, সংবিধান ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। সরকারের অনুমতি থাকলেও কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায় না বলে উল্লেখ করেছে দলটি।
এনসিপির দাবি, বিএনপি তাদের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখার ১৪ নম্বর দফায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া আইজিপির এমন বক্তব্য সেই অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময়ের শাসনামলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল তার অবসান ঘটানো। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন বক্তব্য দেওয়া উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে এনসিপি।
দলটির মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ঢাকতে ‘ক্রসফায়ার’-এর কথা বলা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার পরিচয়। এ ধরনের বক্তব্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের বেআইনি বলপ্রয়োগে উৎসাহিত করতে পারে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো বেআইনি সরকারি নির্দেশ পালন করতে পুলিশ প্রশাসন বাধ্য নয়। রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় পুলিশ বাহিনীকে জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ওপর জোর দিয়েছে দলটি।
এ লক্ষ্যে জুলাই সনদে বর্ণিত পথ অনুসরণ করে অবিলম্বে ‘পুলিশ কমিশন’ গঠনেরও দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
আরু|



