তিব্বতের উত্তরাঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬৫ জন। ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও জরুরি ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগকু শহরে। উঁচু এলাকায় অবস্থিত এই শহরে জনবসতি তুলনামূলক কম। ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর চীনা অঞ্চলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি।
ভূমিকম্পের পরপরই উদ্ধারকাজ ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়। মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাটে নাগকু পুলিশ বিভাগের পৃথক পোস্টে জানানো হয়, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় ট্রাফিক পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশসহ ৩০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্যকে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল এলাকায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পরিদর্শন করছেন এবং বিপদে থাকা মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সহায়তা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে পুলিশ সদস্যরা ট্রাকে ত্রাণসামগ্রী তুলছেন। পাশাপাশি ফ্ল্যাশলাইটের আলোয় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও ধ্বংসস্তূপ পর্যবেক্ষণ করছেন তারা।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর ১২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকারি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ রাস্তায় রাখা নিজেদের গাড়িতে আশ্রয় নেন।
এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রবল কম্পনে তার ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় ঘরের ভেতর থেকে বিভিন্ন ধরনের শব্দও শুনতে পান তিনি।
এদিকে, চীনা আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ৪১৩টি পরাঘাত বা আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এসব কম্পনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ ও নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে, ২০১০ সালে তিব্বতের পার্শ্ববর্তী চীনের কিংহাই প্রদেশের ইউশুতে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।
তিব্বতের সর্বশেষ ভূমিকম্পে হতাহতের সংখ্যা, ক্ষয়ক্ষতি এবং উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্থানীয় প্রশাসন।
আরু|



