প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নতুন সাজে সেজেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। পরিচ্ছন্ন সড়ক, সৌন্দর্যবর্ধন, ঐতিহাসিক স্থাপনার সংস্কার আর বর্ণিল সাজসজ্জায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণে প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। তবে এবারের আয়োজন শুধু একজন সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক নগরী গড়ে তোলার প্রত্যাশা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরের রহমতগঞ্জের ঐতিহাসিক জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
চসিকের পক্ষ থেকে জে এম সেন হল প্রাঙ্গণের সৌন্দর্যবর্ধন, প্রয়োজনীয় সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথের দৃশ্যমান পরিবেশ উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও চলছে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কার্যক্রম। সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথের অবৈধ ব্যানার ও ফেস্টুন।
জে এম সেন হল প্রাঙ্গণের সৌন্দর্যবর্ধন ও সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মাত্র চার দিন আগেও হল প্রাঙ্গণের যে চিত্র ছিল, বর্তমানে তার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে জায়গাটিকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে প্রধানমন্ত্রী এখানে এসে চট্টগ্রামের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের প্রতিফলন দেখতে পারেন।
ঐতিহাসিক স্থাপনায় ফিরছে নতুন প্রাণ
চট্টগ্রামের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জে এম সেন হল। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের স্মৃতিবিজড়িত এ স্থাপনা কেবল একটি অনুষ্ঠানস্থল নয়, বরং নগরীর ঐতিহাসিক পরিচয়েরও অংশ।
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, যাত্রা মোহন সেনগুপ্ত, যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত, সূর্য সেন ও মহিমচন্দ্র দাসসহ দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্মৃতি এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব। একসময় এসব স্থাপনা অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে ছিল। সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে সেগুলো নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে, যাতে নতুন প্রজন্ম চট্টগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে।
সড়ক থেকে ফুটপাত, পরিচ্ছন্ন নগরীর লক্ষ্য
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে জে এম সেন হলের পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিমানবন্দর সড়ক, ভিআইপি সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব কার্যক্রম পরিদর্শন করেছে চসিক কর্তৃপক্ষ।
সাইকেল ট্র্যাক চালু, সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন এবং বোট ক্লাব সড়কের উন্নয়নকাজের কথাও তুলে ধরেন মেয়র। তাঁর ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমের পর সড়ক উন্নয়নের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, সেই অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলছে।
চসিকের লক্ষ্য, নগরে প্রবেশের পর থেকেই অতিথিরা যেন পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও সুন্দর পরিবেশ দেখতে পান। তবে এসব উন্নয়নকাজ যেন প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হওয়ার পরও অব্যাহত থাকে, সেটিই নগরবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
দুর্গোৎসব ঘিরে উৎসবের আমেজ
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নগরবাসীর মধ্যেও আগ্রহ ও উৎসাহ তৈরি হয়েছে বলে জানান মেয়র। তাঁর প্রত্যাশা, নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সম্মিলিত সহযোগিতায় সফরটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষও প্রস্তুতি নিচ্ছে। জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এ সফরের অন্যতম কর্মসূচি।
পরিদর্শনকালে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসিম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সফরের প্রস্তুতি ঘিরে এখন চট্টগ্রামের নজর ঐতিহাসিক জে এম সেন হলের দিকে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে সাজসজ্জা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরবাসীর প্রত্যাশা এই উদ্যোগ যেন সাময়িক আয়োজন হয়ে না থাকে; বরং পরিচ্ছন্নতা, ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত নগর গড়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় পরিণত হয়।
আরু|



