চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার দর্শনায় পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও ইউপি সদস্য আবু ছিদ্দিককে প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ভারতীয় সীমান্তবর্তী নাস্তিপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা ও আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আরও ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে দর্শনা থানার একটি দল কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চণ্ডীপুর গ্রামের হালদারপাড়ায় অভিযান চালিয়ে আবু ছিদ্দিককে আটক করে। তিনি চণ্ডীপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। আটক করার পর তার হাতে হাতকড়া পরানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য, আবু ছিদ্দিককে থানায় নেওয়ার সময় স্থানীয় কয়েকজন নারী-পুরুষ পুলিশের কাজে বাধা দেন এবং একপর্যায়ে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেন। এ সময় দর্শনা থানার এসআই আরিফুল ইসলাম ও কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম আহত হন। পরে হাতকড়াসহ আবু ছিদ্দিক পালিয়ে যান।
ঘটনার পর রাত থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে চণ্ডীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে আটকের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়ায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ফরহাদ হোসেন, লক্ষ্মণ হালদার, কণা রানিদাস, সোনালি হালদার, নাসিম হোসেন, আলম হোসেন, সেলিম মিয়া, ফিরোজ রশিদ ও আশরাফের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বৃহস্পতিবার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও দর্শনা থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ভারতীয় সীমান্তবর্তী নাস্তিপুর এলাকা থেকে হাতকড়াসহ আবু ছিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
দর্শনা থানার ওসি মোখলেসুর রহমান জানান, হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়া ব্যক্তিকে নাস্তিপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের কাজে বাধা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
দামুড়হুদা-জীবননগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরুল্লাহ জানান, আবু ছিদ্দিককে আটক করতে গেলে হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে পুনরায় আটক করা হয়েছে।
আটক ৯ জনকে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
আরু|



