ফরিদপুর জেলা জজ আদালতের নাজির কেএম রফিউদ্দিন (রফিকুল ইসলাম)-এর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলাকারী ও মাদক কারবারিদের জামিন বাণিজ্য, অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মাদকাসক্তির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে তিনি মাদকাসক্ত হওয়ায় তাঁর দ্রুত ডোপ টেস্ট সম্পাদনসহ বিভাগীয় তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিচারপ্রার্থী ও সচেতন নাগরিক সমাজ।
সম্প্রতি ফরিদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর সচেতন ও বিচারপ্রার্থী জনগণের পক্ষে নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী লিখিতভাবে এ অভিযোগ দায়ের করেন।
এ অভিযোগের অনুলিপি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক ও সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জামিন বাণিজ্যের অংশ হিসেবে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করতে গিয়ে নাজির নিজেই চরম মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন। আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পদমর্যাদা ব্যবহার করে তিনি স্থানীয় মাদক সিন্ডিকেটের প্রধান অভিভাবক ও আশ্রয়দাতা হিসেবে কাজ করছেন। এ কারণে অবিলম্বে তাঁর শারীরিক ডোপ টেস্ট সম্পাদন করা জরুরি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফরিদপুর আদালতে বিচারাধীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হত্যাযজ্ঞে অভিযুক্ত আসামি, চিহ্নিত দাগি অপরাধী এবং শীর্ষ মাদক কারবারিদের জামিন প্রক্রিয়া সহজ করতে নাজির প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অবৈধ তদবির পরিচালনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সরকারি পদের অপব্যবহার করে তিনি ও তাঁর পরিবার ঢাকার ধানমন্ডি, বনানী ও গুলশানের মতো অভিজাত এলাকা এবং ফরিদপুর শহরে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও মূল্যবান জমি কিনেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় নিজ ও স্বজনদের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি গড়ে তোলার তথ্যও দেওয়া হয়েছে।
পদের দাপট খাটিয়ে তিনি ভাই, ছেলে ও জামাতাসহ নিজের নিকটাত্মীয়দের বিচার বিভাগের বিভিন্ন পদে চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়।
সাধারণ বিচারপ্রার্থী ও সেবাগ্রহীতাদের কাছে নকল সরবরাহসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজের বিনিময়ে তিনি অবৈধ অর্থ দাবি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। দাবিকৃত অর্থ না দিলে নথি আটকে রাখা এবং চরম দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, একজন দায়িত্বশীল কর্মচারীর এহেন দুর্নীতি ও অনিয়মের ফলে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও পবিত্রতা চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, নাজিরের ডোপ টেস্ট এবং দ্রুত কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফরিদপুর জেলা নাজির কেএম রফিউদ্দিন (রফিকুল ইসলাম)।

তিনি বলেন, ‘আমি জেলা নাজির হিসেবে কর্মরত আছি। আমার প্রতিপক্ষরা এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে। মাদক সেবন ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে আমি জড়িত নই। আসামিদের জামিনে টাকার বিনিময়ে সহায়তা ও জামিনের কাগজ আটকে রাখার ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
জেলা জজ (ভারপ্রাপ্ত) কর্তৃক তাঁর বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে করা শোকজের জবাব দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সকল অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও প্রতিপক্ষের সাজানো দাবি করে জেলা নাজির কেএম রফিউদ্দিন (রফিকুল ইসলাম) বলেন, তিনি ডোপ টেস্টের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ থাকার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী অভিযোগকারী ও সচেতন মহল দ্রুত এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মাদক সেবনের ডোপ টেস্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরু|



