আয়নায় তাকালে অনেকেরই চোখে পড়ে মুখের তুলনায় ঘাড়ের ত্বক কিছুটা বেশি কালো। বিশেষ করে ছবি তোলা বা উজ্জ্বল আলোতে এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়। তবে ঘাড় কালো দেখানোর অর্থ সবসময় অপরিষ্কার থাকা নয়। সূর্যের আলো, ঘর্ষণ, ত্বকের সমস্যা, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা কিছু স্বাস্থ্যগত কারণেও ঘাড়ের ত্বকে পিগমেন্টেশন হতে পারে।
প্রথম কারণ সূর্যের আলো। মুখে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা হলেও ঘাড়ে অনেকেই তা লাগান না। ফলে দীর্ঘদিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে ঘাড়ের ত্বকে মেলানিন বেড়ে গিয়ে সেটি তুলনামূলক কালো দেখাতে পারে।
দ্বিতীয় কারণ ঘর্ষণ ও জ্বালাপোড়া। কলার, স্কার্ফ, গয়না কিংবা বারবার ঘষাঘষির কারণে ঘাড়ের ত্বকে জ্বালা তৈরি হতে পারে। এতে পিগমেন্টেশনও বাড়তে পারে। একইভাবে শক্ত স্ক্রাব বা লুফা দিয়ে ঘষলেও সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
তৃতীয় কারণ মৃত ত্বক, ঘাম ও তেল জমে থাকা। এসব কারণে ঘাড় সাময়িকভাবে কালো দেখাতে পারে। তবে জোরে ঘষে পরিষ্কার করা উচিত নয়। এতে ত্বকে জ্বালাপোড়া হয়ে উল্টো কালচে ভাব বাড়তে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ অ্যাকান্থোসিস নাইগ্রিকানস। এ ক্ষেত্রে ঘাড়ের ত্বক কালো, মোটা ও মখমলের মতো হয়ে যেতে পারে। এটি অনেক সময় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই ঘাড়ের কালচে ভাব দীর্ঘদিন থাকলে এবং ত্বক পুরু বা মখমলের মতো মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
হরমোনের পরিবর্তনও ত্বকের রঙে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশে পিগমেন্টেশন বেড়ে যেতে পারে।
এ ছাড়া একজিমা, কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিসের মতো ত্বকের সমস্যার পরও ঘাড়ে কালচে দাগ দেখা দিতে পারে। নতুন সাবান, পারফিউম, চুলের পণ্য, গয়না বা কোনো স্কিনকেয়ার পণ্য থেকেও ত্বকে জ্বালাপোড়া হয়ে এমনটা হতে পারে।
সবশেষে, এটি অনেক সময় ত্বকের স্বাভাবিক রঙের পার্থক্যও হতে পারে। মুখ ও ঘাড় সমানভাবে সূর্যের আলো বা ত্বকের যত্ন পায় না। তাই সামান্য রঙের পার্থক্য থাকাটাই সবসময় কোনো রোগের লক্ষণ নয়।
তবে কালচে ভাব হঠাৎ বাড়লে, দীর্ঘদিন থাকলে বা ত্বক পুরু হয়ে গেলে শুধু ঘষে পরিষ্কার করার চেষ্টা না করে কারণটি জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
আরু|



