ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ‘ক্যাঙারু কোর্টের রায়’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজির হয়ে তারা নিজেদের বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। পরে আদালত অবমাননার অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়।
এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কার্যক্রম শুরুর আবেদন করে।
অভিযোগে বলা হয়, ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, একটি ফেসবুক পোস্টে ট্রাইব্যুনালের রায়কে ‘অবৈধ’, ‘মিথ্যা’, ‘বানোয়াট’ ও ‘ক্যাঙারু কোর্টের রায়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাদের এমন মন্তব্য আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করতে পারে বলেও প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়।
এ ঘটনায় ১৬ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল দুই আইনজীবীকে ২৩ সেপ্টেম্বর সশরীরে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী বুধবার তারা ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন।
এই মামলার সূত্রপাত ১৫ সেপ্টেম্বরের একটি রায়কে কেন্দ্র করে। ওই দিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
মামলার অন্য দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন এবং শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
এখন দুই আইনজীবীর নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার পর আদালত অবমাননার অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল কী সিদ্ধান্ত দেন, তা জানা যাবে আগামী ২৬ অক্টোবরের শুনানিতে।
আরু|



