নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢল থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬০ জনে। এর মধ্যে নেপালে ১৫৭ জন এবং চীনের দক্ষিণ তিব্বতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৮টি দেশের ৪৬৬ জন বিদেশি নাগরিক এবং নেপালের ১১৩ জন রয়েছেন। বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ৫৪ জন যুক্তরাষ্ট্রের এবং ৩৩ জন যুক্তরাজ্যের নাগরিক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, চীনের তিব্বত অংশে আরও ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে দুই দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পুলিশ ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানে জোরালো অভিযান চলছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজে নানা ধরনের বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল সংসদে দেওয়া বক্তব্যে জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় সময় বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ওই এলাকায় একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ভূমিকম্পের প্রভাবে হিমবাহ ধসে পড়ে এবং সেখান থেকেই ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়।
হঠাৎ নেমে আসা এই ঢল পাহাড়ি নদী ও আশপাশের জনপদে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। বহু ঘরবাড়ি, সড়ক ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুর্যোগের প্রভাব শুধু নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; চীনের সংলগ্ন তিব্বত অংশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল ও চীন যৌথভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে নিখোঁজদের তালিকায় নেপালের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। এখন পর্যন্ত ২৬ জন পুলিশ সদস্য, নয়জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তারও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
উদ্ধারকারী দলগুলো নিখোঁজদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। দুর্গম এলাকায় এখনো অনেক মানুষ আটকে থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরু|



