চট্টগ্রামের খুলশীতে একসঙ্গে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের অবস্থানের ঘটনায় এবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোহাম্মদ মহসিন নামে এক ব্যক্তিকে। পুলিশের দাবি, তার পাঠানো ১১৮ গ্রাম কোকেনের সূত্র ধরেই সন্ধান মেলে ওই বিদেশি নাগরিকদের আস্তানার।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নগরের খুলশী এলাকা থেকে মহসিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, কয়েক দিন আগে কুরিয়ারের মাধ্যমে ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে ১১৮ গ্রাম কোকেন পাঠিয়েছিলেন মহসিন। পরে কোকেনগুলো ফেরত আসে। বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, খুলশীর একটি আটতলা ভবনে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক অবস্থান করছেন।
তদন্তে মহসিনের সঙ্গে ওই ৬৩ বিদেশির সরাসরি যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের জন্য খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের আটতলা ভবনটি ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রেও মহসিন ভূমিকা রেখেছিলেন। এমনকি বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্টও তার কাছে জমা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মহসিনের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। তিনি চট্টগ্রাম নগরের কর্ণফুলী এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসিনের সম্পর্ক রয়েছে। তার মাধ্যমে ভবনটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। মহসিনের পেছনে আরও কারা রয়েছে, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানায়, কোকেনের ঘটনায় করা মামলায় শনিবার সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে মহসিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ৬৩ বিদেশির বিরুদ্ধে করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। এ মামলায় তার রিমান্ডও চাওয়া হবে।
রিমান্ড মঞ্জুর হলে মহসিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো চক্রের বিষয়ে তথ্য বের করার চেষ্টা করবে পুলিশ। বিশেষ করে ৬৩ বিদেশির সঙ্গে তার সম্পর্ক, কার নির্দেশে তাদের জন্য ভবন ভাড়া নেওয়া হয়েছিল এবং এই কর্মকাণ্ডের পেছনে আরও কারা রয়েছে এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত শুক্রবার খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ওই আটতলা ভবনে অভিযান চালায় সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ। অভিযানে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, প্রায় দেড় মাস ধরে ওই বাড়িতে অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অনলাইন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল।
এ ঘটনায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এসআই রেজাউল করিম চৌধুরী বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন। ওই মামলায় ৬৩ বিদেশিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করা হয়।
আরু|



