ঘুমের মধ্যে মানুষ নানা ধরনের স্বপ্ন দেখে। কখনো নিজেকে বর বা কনের সাজে দেখা যায়, আবার কখনো দেখা যায় নিজেরই বিয়ে হচ্ছে। এমন স্বপ্ন দেখার পর অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে_এর কোনো বিশেষ অর্থ আছে কি? ইসলামের দৃষ্টিতেই বা এর ব্যাখ্যা কী?
ইসলামি দৃষ্টিতে প্রতিটি স্বপ্নের নির্দিষ্ট তাবির বা ব্যাখ্যা নেই। হাদিস ও ইসলামি ব্যাখ্যাগ্রন্থে স্বপ্নকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিছু স্বপ্ন সত্য ও সুসংবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। আবার কিছু স্বপ্ন মানুষের নিজের চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন হতে পারে এবং কিছু স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে ভয় বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমও হতে পারে। (ফাতহুল বারি: ১২/৩৫২)
হাদিসে ভালো স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর প্রশংসা করতে এবং তা প্রিয় বা বিশ্বস্ত ব্যক্তির কাছে বলার কথা বলা হয়েছে। আর অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে এবং তা অন্যের কাছে প্রকাশ না করার নির্দেশনা রয়েছে। (সহিহ বুখারি: ৬৫৮৪, সহিহ মুসলিম: ৫৮৬২)
অবিবাহিত ব্যক্তি নিজের বিয়ে দেখলে
কোনো অবিবাহিত ব্যক্তি যদি নিয়মিত বিয়ে নিয়ে চিন্তা করেন, বিয়ের প্রস্তুতি নেন কিংবা এ বিষয়ে প্রবল আগ্রহী থাকেন, তাহলে ঘুমের মধ্যে নিজের বিয়ে দেখাকে তার মনের চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখা যেতে পারে।
তবে কিছু ইসলামি তাবিরগ্রন্থ ও ব্যাখ্যায় স্বাভাবিক অবস্থায় অবিবাহিত ব্যক্তির নিজের বিয়ে দেখাকে রিজিক বৃদ্ধি, আর্থিক অবস্থার উন্নতি কিংবা জীবনে নতুন কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কারও ক্ষেত্রে এটি শিগগির বিয়ের সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়।
তবে মনে রাখতে হবে, স্বপ্নের তাবির ব্যক্তির পরিস্থিতি, সময় এবং স্বপ্নের অন্যান্য বিবরণের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।
বিবাহিত পুরুষ নিজের বিয়ে দেখলে
কোনো বিবাহিত পুরুষ স্বপ্নে আবার নিজের বিয়ে হতে দেখলে কিছু ব্যাখ্যাবিদ এটিকে সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে অগ্রগতি কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন।
এ ছাড়া পরিবার বা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে বিশেষ সহযোগিতা কিংবা কোনো ধরনের কল্যাণ পাওয়ার ইঙ্গিতও কিছু তাবিরে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবাহিত নারী দ্বিতীয় বিয়ে দেখলে
কোনো বিবাহিত নারী স্বপ্নে নিজের দ্বিতীয় বিয়ে হতে দেখলে কিছু ব্যাখ্যাবিদ এটিকে সম্ভাব্য অনিষ্ট বা বিপদের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে এমন স্বপ্ন দেখলেই বাস্তবে কোনো অমঙ্গল ঘটবে এমন নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া ইসলামসম্মত নয়।
অপছন্দনীয় বা ভয়ংকর স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত। সামর্থ্য অনুযায়ী সদকা করাও উত্তম আমল হিসেবে বিবেচিত হয়।
কখন স্বপ্নের তাবির জানতে হবে?
হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ উমদাতুল কারি ও ফাতহুল বারি-তে উল্লেখ রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ফজরের নামাজের পর সাহাবিদের স্বপ্ন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তার ব্যাখ্যা দিতেন।
তাই কেউ নিজের দেখা স্বপ্নের তাবির জানতে চাইলে, স্বপ্নটি মনে থাকা অবস্থায় অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী আলেমের পরামর্শ নিতে পারেন। তবে কোনো স্বপ্নের ব্যাখ্যাকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।
কারণ ইসলামে সব স্বপ্নের নির্ধারিত অর্থ নেই। অনেক সময় মানুষের দৈনন্দিন চিন্তা, আকাঙ্ক্ষা, ভয় কিংবা মানসিক অবস্থার প্রতিফলন হিসেবেও স্বপ্ন আসতে পারে। তাই স্বপ্নে নিজের বিয়ে দেখলেই বাস্তবে বিয়ে, সুখ বা অমঙ্গল ঘটবেএমন নিশ্চিত ধারণা করা ঠিক নয়।
আরু|



