বিয়ে ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একের পর এক বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন খবর প্রকাশের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী পূজা চেরি।
মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব খবরকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন এবং ভবিষ্যতে এমন সংবাদ প্রকাশ হলে নিজের আইনি অধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
পূজা চেরি জানান, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার বিয়ে ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা ধরনের খবর ছড়ানো হচ্ছে। কখনো কোনো নির্দিষ্ট পেশার ব্যক্তির সঙ্গে, আবার কখনো অন্য কারও সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, এসব তথ্য তাকে বিব্রত ও দুঃখিত করেছে।
অভিনেত্রী বলেন, তিনি এর আগেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে তিনি এনগেজড এবং পারিবারিকভাবে তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। তবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা এখনো সম্পন্ন হয়নি। বিয়ে হলে সেটি গোপন রাখার কোনো পরিকল্পনাও তার নেই। বরং যথাসময়ে নিজেই আনন্দের সঙ্গে বিষয়টি প্রকাশ্যে জানাবেন বলে জানান তিনি।
পূজা আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমার এখনো বিয়ে হয়নি।’ তার দাবি, তথ্য যাচাই না করে বারবার তাকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে সংবাদমাধ্যম ও ভক্তদের সবার আগে জানানোর প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
পূজার বাগদান নিয়ে চলতি বছরেও বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। মার্চে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন যে তিনি এনগেজড এবং বিয়ের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে হবু স্বামীর পরিচয় প্রকাশ করেননি। জুলাইয়েও তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন করে বাগদানের গুঞ্জন ছড়ায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সর্বশেষ বক্তব্যে পূজা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সুনাম রক্ষার অধিকার নিয়েও কথা বলেন। অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ এবং ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার নেওয়ার কথা জানান তিনি।
তবে তার পোস্টে উল্লেখ করা ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩’-এর ২৫ ধারার বিষয়টি বর্তমান আইনি কাঠামোর সঙ্গে মেলে না।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন পরবর্তী সময়ে রহিত হয়েছে এবং ২০২৬ সালে নতুন ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ কার্যকর হয়েছে। বর্তমান আইনে ২৫ ধারা মূলত যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং, রিভেঞ্জ পর্ন ও সেক্সটর্শনসহ নির্দিষ্ট ডিজিটাল অপরাধ নিয়ে।
এদিকে পূজার বক্তব্যের মূল বিষয় হলো- তার বিয়ে নিয়ে অনুমাননির্ভর বা যাচাইহীন খবর না ছড়িয়ে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদ প্রকাশ করা। সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের প্রতি বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তার নীরবতাকে যেন কেউ ভিত্তিহীন সংবাদ তৈরির সুযোগ হিসেবে ব্যবহার না করেন। অন্যথায় নিজের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন বলেও সতর্ক করেছেন এই অভিনেত্রী।
আরু|



