চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। এ লক্ষ্যে ৪০ শতাংশ প্রণোদনামূলক ট্যারিফসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। শনিবার (১৫ আগস্ট) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।
চেম্বারের পাঁচ প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে-শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন পরিচালনা করা; আন্তর্জাতিক রুটে ৪০ শতাংশ অগ্রাধিকারমূলক ট্যারিফ নির্ধারণ; দীর্ঘপথের ফ্লাইটের বিরতির সময় যাত্রী ওঠানামার সুযোগ দেওয়া; দীর্ঘপথের ফ্লাইটের জন্য ট্রানজিট ও জ্বালানি সরবরাহের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকায় পিপিপি, বিওও বা বিওওটি পদ্ধতিতে কার্গো ভিলেজ ও আইসিডি/সিএফএস স্থাপন করা।
চেম্বার বলছে, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, বড় পাইকারি বাজার, একাধিক রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক স্থাপনার বড় অংশ চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে এ অঞ্চল দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কেন্দ্র। কিন্তু এসব সম্ভাবনার তুলনায় শাহ আমানত বিমানবন্দরের যাত্রী ও কার্গো সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
সাম্প্রতিক সময়েও বিমানবন্দরটির কার্গো অবকাঠামো নিয়ে নানা উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একটি প্রকল্পে শাহ আমানত বিমানবন্দরের কার্গো সেবা উন্নয়নে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম স্ক্যানার, কোল্ড স্টোরেজ ও আধুনিক কার্গো শেড স্থাপনের কথা রয়েছে। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির এক প্রতিবেদনে এসব অবকাঠামো উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি সীমিত থাকার কথা উঠে আসে।
এর আগে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে অবকাঠামো ও দরপত্র-সংক্রান্ত জটিলতায় সেই উদ্যোগে ধীরগতি দেখা দেয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালুর উদ্যোগে অগ্রগতি কমে যাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।
চেম্বারের মতে, বিমানবন্দরটির বর্তমান সক্ষমতার মধ্যেই যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং বাড়ানোর পাশাপাশি ট্রানজিট এবং কানেক্টিং ফ্লাইট আকর্ষণের সুযোগ রয়েছে। এতে একদিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে চট্টগ্রাম হয়ে পূর্ব-পশ্চিম আকাশপথে নতুন সংযোগ তৈরি হবে।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর এবং শিল্পাঞ্চলকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো গেলে পণ্য পরিবহন ও রপ্তানিতে সময় ও ব্যয় কমানো সম্ভব বলে মনে করছে চেম্বার। বিমানবন্দর-সংলগ্ন পতেঙ্গা এলাকায় কার্গো ভিলেজ এবং আইসিডি/সিএফএস স্থাপনের মাধ্যমে সমুদ্র ও আকাশপথের পণ্য পরিবহনে একটি সমন্বিত লজিস্টিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি, বিওও এবং বিওওটি পদ্ধতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব বলেও জানিয়েছে চেম্বার। সরকারি নথিতেও শাহ আমানত বিমানবন্দরের কার্গো ভবন সম্প্রসারণ, রানওয়ে উন্নয়ন এবং নতুন যাত্রী টার্মিনালসহ ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনার কথা রয়েছে।
চেম্বার আরও বলেছে, মোংলা বন্দরের কার্যক্রম বাড়াতে যেভাবে তুলনামূলক কম ট্যারিফ নির্ধারণ করে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, একইভাবে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও কার্গো ট্রাফিক আকর্ষণে রেয়াতি ট্যারিফ চালু করা যেতে পারে।
এর আগে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও চট্টগ্রামকে লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথা বলেছেন।
জুলাইয়ে শাহ আমানত বিমানবন্দরে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের পর চট্টগ্রাম একটি লজিস্টিক হাবে পরিণত হবে।
চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী এবং আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা চেয়েছে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।
আরু|



