বাংলাদেশের তেঁতুলিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে দীপঙ্কর গোপ নামে ৩৫ বছর বয়সী এক ভারতীয় চা-চাষীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার ভোরে নিজের চা-বাগানে কাজ করার সময় একদল ব্যক্তি তাকে জোর করে বাংলাদেশে নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। ঘটনাটি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীপঙ্কর গোপ পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার চাউলহাটি সীমান্তসংলগ্ন তাসার পারা গ্রামের বাসিন্দা। নিজের প্রায় ৬ বিঘা জমিতে চা চাষ করতেন তিনি। শনিবার ভোরে জমিতে কীটনাশক ছিটাতে গেলে সেখানে প্রায় ২০ জন বাংলাদেশি প্রবেশ করে তাকে ঘিরে ফেলে এবং জোর করে বাংলাদেশে নিয়ে যায় বলে বিএসএফের দাবি।
বিএসএফ জানিয়েছে, দীপঙ্করের চা-বাগানটি চাউলহাটি সীমান্ত পোস্ট থেকে মাত্র প্রায় ১৫০ কদম দূরে। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তিরা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছিল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী, দীপঙ্কর বর্তমানে বাংলাদেশের পঞ্চগড় এলাকায় বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন। তবে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তার অবস্থান ও অপহরণের অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য এখনো সামনে আসেনি।
ঘটনার সঙ্গে কয়েক দিন আগের আরেকটি সীমান্ত ঘটনার যোগসূত্র থাকার কথাও জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, গত ৬ আগস্ট চাউলহাটি সীমান্তের কাছে তমিজ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছিল। এর দুই দিন পরই দীপঙ্করকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
দীপঙ্কর নিখোঁজ হওয়ার পরপরই বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তার মুক্তির বিষয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকও হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার বিএসএফ জানিয়েছে, দীপঙ্কর গোপকে ফেরাতে তারা বিজিবি ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্রের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ির সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এখন দীপঙ্কর গোপকে কবে এবং কীভাবে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়, সেদিকেই নজর দুই দেশের সীমান্তসংশ্লিষ্টদের।
আরু|খব



