১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদ অবশেষে তার দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। দীর্ঘ ১৩ বছর পলাতক থাকার পর দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পর তিনি এই আইনি সুযোগ পেয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় আবুল কালাম আযাদের করা আপিলটি শুনানির জন্য রয়েছে।
আবুল কালাম আযাদ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম আসামি। ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি পলাতক থাকা অবস্থায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই রায়ই ছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর পর ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটসহ একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল।
রায়ের পর দীর্ঘ সময় বিদেশে পলাতক ছিলেন আবুল কালাম আযাদ। তবে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন। একই দিনে আপিলের প্রস্তুতির জন্য রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী। পরে ট্রাইব্যুনাল তাকে এসব নথি সরবরাহের নির্দেশ দেন।
তার আপিলের সুযোগ তৈরি হয় দণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশের পর। রাষ্ট্রপতির আদেশের ভিত্তিতে তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখা হয় এবং সেই সুযোগেই তিনি আত্মসমর্পণ করে আপিলের প্রক্রিয়ায় যান।
আবুল কালাম আযাদ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ইসলামবিষয়ক অনুষ্ঠান করে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তিনি একসময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এখন মূল নজর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দিকে দীর্ঘ ১৩ বছর পর করা এই আপিলের শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, সেটিই দেখার বিষয়।
আরু|খব



