কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুর্ঘটনার পর বন্ধ থাকা ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনাল ১৬ দিন পর আবার আংশিকভাবে চালু হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালের একটি বয়লার সচল হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়।
সরকারি সংস্থা রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে দৈনিক ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়িয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করা হবে।
কী ঘটেছিল?
গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি বয়লারে আগুন লাগার পর কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো টার্মিনাল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক খাতে তীব্র গ্যাস সংকট সৃষ্টি হয়।
দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের টানা ১৬ দিনের প্রচেষ্টার পর অবশেষে টার্মিনালটির একটি বয়লার সচল করা সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে মহেশখালী উপকূলে দুটি ভাসমান এলএনজি (FSRU) টার্মিনাল রয়েছে। একটি পরিচালনা করে এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট।
সমুদ্রপথে আমদানি করা এলএনজি এই টার্মিনালগুলোতে সংরক্ষণ করা হয় এবং তা পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই দুই টার্মিনাল থেকে।
এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটির পূর্ণ সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের। বর্তমানে চালু হওয়া একটি বয়লার দিয়ে সর্বোচ্চ ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব।
আরপিজিসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দ্বিতীয় বয়লারটি মেরামতের কাজ চলছে। সেটি চালু করতে আরও ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টার্মিনালটি আংশিক চালু হওয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান গ্যাস সংকট কিছুটা কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় সরবরাহ শুরু না হওয়া পর্যন্ত কিছু এলাকায় চাপ কম থাকতে পারে।
আরু||খব



