সারাদেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের প্রভাব এখন শিল্প খাতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গাজীপুরের প্রায় ২০ থেকে ২২ শতাংশ শিল্পকারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে উৎপাদন, রপ্তানি এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে গ্যাস সংকটের কারণে গাজীপুরের ৭ শতাধিক কারখানায় টানা তিন থেকে চার দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, জেলার প্রায় ২০ শতাংশ কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে। অধিকাংশ শ্রমিক আগামী রোববার কাজে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) গাজীপুর কার্যালয়ের উপমহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এম এম মামুন-অর-রশিদ বলেন, গাজীপুরে তিন থেকে চার দিনের ছুটির আওতায় এসেছে মোট ২০ থেকে ২২ শতাংশ কারখানা, যার সংখ্যা সাত শতাধিক।
তিতাস গ্যাসের গাজীপুর জোনের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী গোলাম ফারুক জানান, গাজীপুর জেলা ও মহানগরে দৈনিক প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ কোটি ঘনফুটের কিছু বেশি। ফলে শিল্পাঞ্চলে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন সীমিত বা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
শিল্প মালিকরা জানান, গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন পুরোপুরি সচল করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, নিটিং, ডাইং ও ওয়াশিং খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক কারখানায় শ্রমিকদের কাজ না থাকলেও বেতন পরিশোধ করতে হচ্ছে।
এদিকে একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও। অধিকাংশ পোশাক কারখানা সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন সড়কে বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে অনেক শ্রমিককে, কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে যানজটও।
নারায়ণগঞ্জেও গ্যাস সংকটের কারণে আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) অধিকাংশ গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বিসিক শিল্পনগরীর বেশিরভাগ নিটিং কারখানা চালু রয়েছে, কারণ গার্মেন্টস বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের ওপর চাপ কমে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সিনিয়র সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, গ্যাস সংকটের পাশাপাশি রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ায় শিল্প খাত অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে। অনেক সাব-কন্ট্রাক্ট কারখানাও উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপরও চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরু||খব



