বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। পরিকল্পনাটি বাতিল করার পরও তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন থামেনি। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সহায়তা চাওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পোস্ট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইনফান্তিনো মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার উদ্যোগ নেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডিলান জনসন পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, রুবিওর সঙ্গে ইনফান্তিনোর কোনো নির্ধারিত বৈঠক বা ফোনালাপের পরিকল্পনা ছিল না। তিনি নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় ফিফার একটি প্রস্তাবকে ঘিরে। পরিকল্পনা ছিল, বিশ্বকাপের সম্প্রচার, স্পন্সরশিপ, টিকিটিংসহ ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্পদের একটি অংশ পরিচালনার জন্য নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করে তার ২০ শতাংশ শেয়ার প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলারে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে।
এই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এর ভাই জোশুয়া কুশনার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামও উঠে আসে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত ফিফা পরিকল্পনাটি বাতিল করে।
এদিকে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনের জন্য বিকল্প প্রার্থী খোঁজার কাজও শুরু করেছে। ওয়েলসসহ কয়েকটি ইউরোপীয় ফুটবল ফেডারেশন ইতোমধ্যে ইনফান্তিনোকে আর সমর্থন করবে না বলে জানিয়েছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের দাবি, শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পর ইনফান্তিনো একাধিকবার ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হননি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলমান বিতর্ক ও সমালোচনার কারণে ফিফা সভাপতি নিজেকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় অনুভব করছেন। তবে এ বিষয়ে ফিফার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য জানানো হয়নি।
আরু/



