দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫ জন শিশু।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত হাম বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৮৩৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩৫ জন শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮৭০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। ফলে একদিনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫ জনে।
এ সময় ৮১৬ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে চিকিৎসা শেষে ৮৫৫ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ৪১০ জন। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৮৭৪ জনের।
একই সময়ে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ১৮২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজার ৫৩ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের সময়সূচি অনুযায়ী, এমআর (Measles-Rubella) টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে র্যাশ, কাশি, সর্দি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংক্রমণ ঠেকাতে আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরু/


