ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ২৯ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ‘বেইলি’ (Beyli) নামের একটি পোষ্য কুকুরকে। প্রায় এক মাস কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকার পরও তার বেঁচে ফেরাকে ‘অলৌকিক’ বলে অভিহিত করছেন উদ্ধারকর্মী ও পশুচিকিৎসকেরা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-সহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বেইলিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। দীর্ঘ সময় খাবার ও পানির অভাবে আটকে থাকলেও সে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায়। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাকে বাইরে নিয়ে আসেন।
গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় পরপর ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং শত শত ভবন ধসে পড়ে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি অসংখ্য মানুষ ও প্রাণী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে।
উদ্ধারকারীরা জানান, ধ্বংসস্তূপে আর কোনো জীবিত প্রাণী থাকার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন তারা। ঠিক সেই সময় ধুলোয় ঢাকা অবস্থায় বেইলিকে তার মালিকের মৃত মায়ের মরদেহের পাশে গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাটি উপস্থিত উদ্ধারকর্মীদের আবেগাপ্লুত করে।
উদ্ধারের পরপরই দমকলকর্মীরা বেইলিকে পানি পান করান। পরে তাকে দ্রুত ভেটেরিনারি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়, যেখানে স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার শরীর দুর্বল হলেও অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।
পশুচিকিৎসক মিরনা বলেন, “এটি সত্যিই অলৌকিক। এত দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকেও তার বেঁচে থাকা অবিশ্বাস্য। চোখে কিছু ক্ষত রয়েছে, তবে আমরা আশা করছি সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।”
এই ভূমিকম্পে বেইলির ১১ বছর বয়সী মালিক ভিক্টোরিয়া তার মা ও দাদিকে হারিয়েছে। তাই বেইলির জীবিত উদ্ধার শুধু একটি অলৌকিক ঘটনারই নয়, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারের জন্য আশার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১৯.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ প্রত্যক্ষ ভৌত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অবকাঠামো, সড়ক ও ভবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
আরু/


