সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিও নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। লিখিত এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেছেন, এটি একটি পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইলের অংশ এবং রাজনৈতিকভাবে তাকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যান। সেখানে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থানের একপর্যায়ে তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ বাইরে গেলে ৫ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশ করে তাদের জিম্মি করে।
তার দাবি, ওই সময় তাদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা আদায় করা হয়। এছাড়া তিনি যে ভাড়ার গাড়ি ব্যবহার করছিলেন সেটি আটকে রেখে আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
গাজী নজরুল ইসলাম আরও বলেন, পরে তিনি জানতে পারেন যে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই সময় স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ভিডিও ধারণ করে পরে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
তার অভিযোগ, ভিডিওটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে পারিবারিকভাবে মরিয়ম বেগমকে বিয়ে করেন।
ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।
এদিকে, ঘটনার পর জামায়াতের মিডিয়া সেলের একটি গ্রুপে দুটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়। একটিতে গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী দাবি করেন, তার সম্মতিক্রমেই দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে।
অন্য ভিডিওতে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগমের বাবা মাসুম বিল্লাহ বলেন, গত ১৭ জুন তার বড় মেয়ে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিয়ের সময় প্রথম স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একই ভিডিওতে মরিয়ম বেগম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, তারা বৈধভাবে স্বামী-স্ত্রী এবং সম্মানহানির উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল পরিচালিত ক্রাইম বার্তা প্রথমদিকে দাবি করেছিল, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি একটি ভুয়া ভিডিও। পরবর্তীতে গাজী নজরুল ইসলামের লিখিত বিবৃতিতে ভিডিওটি বাস্তব হলেও তা গোপনে ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ভিডিওটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও অভিযোগের সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আরু/


