ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি হতে যাচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল। আগামী ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ম্যাচটিকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দুই প্রজন্মের দুই তারকা—লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল।
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও ভাইরাল হয়েছে একটি পুরোনো ছবি।
২০০৭ সালে বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফের একটি দাতব্য কর্মসূচিতে তোলা সেই ছবিতে দেখা যায়, মাত্র ছয় মাস বয়সী লামিনে ইয়ামালকে কোলে নিয়ে হাসছেন তরুণ লিওনেল মেসি। প্রায় দুই দশক পর সেই দুইজনই এবার বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রতিপক্ষ হিসেবে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।
স্পেনের তরুণ তারকা ইয়ামাল সম্প্রতি ক্রীড়াভিত্তিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ডিএজেডএন (DAZN)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসির বিপক্ষে খেলার অনুভূতি প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “আমি এখন কিছুটা বড় হয়েছি, লিওর বয়সও বেড়েছে। আশা করছি ফাইনালে ওর মুখোমুখি হতে পারব। বিশেষ করে ফিনালিসিমা ম্যাচটি যেহেতু মাঠে গড়ায়নি, তাই এই ফাইনালটি আমার জন্য অনেক বড় সুযোগ।”
ইয়ামালের এই মন্তব্য এখন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মধ্যকার সম্ভাব্য ফিনালিসিমা এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে বিশ্বকাপের ফাইনালেই প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন স্পেনের এই বিস্ময়বালক।

২০০৭ সালে ইউনিসেফের একটি লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন তৎকালীন ২০ বছর বয়সী বার্সেলোনা তারকা লিওনেল মেসি। সেই নির্বাচিত পরিবারগুলোর একটিই ছিল ইয়ামালের পরিবার। তখন কেউ কল্পনাও করেনি, মেসির কোলে থাকা সেই শিশুই একদিন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠবেন।
এদিকে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ফাইনাল শুধু দুই দেশের লড়াই নয়, এটি দুই প্রজন্মের দুই অসাধারণ প্রতিভারও প্রতীকী দ্বৈরথ। একদিকে ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে থাকা কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা লামিনে ইয়ামাল।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় এক বিশ্বকাপ ফাইনালের সাক্ষী হবে ফুটবল বিশ্ব। সেখানে কোটি কোটি দর্শকের চোখ থাকবে মেসি-ইয়ামাল দ্বৈরথের দিকেই।
আরু/


