বঙ্গোপসাগরে মিয়ানমারের উপকূলের কাছে দুটি নৌকা ডুবে অন্তত ৫৩০ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম ভয়াবহ সমুদ্র দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আইওএম ও ইউএনএইচসিআর এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, গত জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উপকূল থেকে দুটি নৌকা যাত্রা শুরু করে। নৌকাগুলোতে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দারাও ছিলেন।
সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, যাত্রা শুরুর প্রায় দুই সপ্তাহ পর, ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাওয়াদি উপকূলের কাছে দুটি নৌকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রথমে একটি নৌকা এবং অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয় নৌকাটিও ডুবে যায়। এখন পর্যন্ত কোনো যাত্রী জীবিত উদ্ধার হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, নৌকাগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, যাত্রীরা মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন। নিরাপত্তাহীনতা, সংঘাত এবং মানবিক সংকট থেকে বাঁচতে প্রতিবছর বহু রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
জাতিসংঘের দুই সংস্থা এ ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলেছে, নিরাপদ ও বৈধ আশ্রয় এবং সুরক্ষার সুযোগ না থাকায় রোহিঙ্গারা বাধ্য হয়ে এমন প্রাণঘাতী সমুদ্রযাত্রায় নামছেন। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
আরু/


