বাংলাদেশের পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক (মেরিটাইম) খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। বিশেষ করে কোল্ড স্টোরেজ, বন্দর ব্যবস্থাপনা, কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা এবং লজিস্টিকস সাপ্লাই চেইন উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে নতুন অংশীদারত্বের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর বিনিয়োগ ভবনে সফররত সৌদি আরবের পরিবহন ও লজিস্টিকস উপমন্ত্রী ড. রুমাইহ মোহাম্মদ আল-রুমাইহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
এ সময় বিডা, পিপিপিএ ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সৌদি উপমন্ত্রী বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব নীতি, ব্যবসা সহজীকরণ এবং বেসরকারি খাতের বিকাশে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংস্কার ও বিনিয়োগ নীতি সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য ও কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ড. রুমাইহ মোহাম্মদ আল-রুমাইহ বলেন, সৌদি আরব নিজেকে একটি বৈশ্বিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে দেশটির শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশে বিনিয়োগে উৎসাহ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশে সৌদি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি সৌদি আরবে ব্যবসা করতে আগ্রহী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদেরও স্বাগত জানানো হবে।
সৌদি বিনিয়োগের সফল উদাহরণ হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে সৌদি প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)-এর কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, টার্মিনালটির ৯৮ শতাংশের বেশি কর্মী বাংলাদেশি এবং এই সফল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সামুদ্রিক লজিস্টিকস, বন্দর পরিচালনা, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে আরও বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে আরএসজিটি।
বৈঠক শেষে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, সৌদি আরব বিশেষ করে লজিস্টিকস, সাপ্লাই চেইন, কোল্ড স্টোরেজ ও সামুদ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে আর্থিক সেবা খাতেও সৌদি বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।
তিনি আরও জানান, সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সৌদি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিডা নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বন্দর সক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া উভয় দেশের প্রতিনিধিরা মত দেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সহযোগিতার ইতিবাচক ধারা কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক লাভজনক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
আরু/


