বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। দারুণ ফর্মে থাকা ফরাসিদের বিপক্ষে প্যারাগুয়ের পরাজয় অনেকটাই প্রত্যাশিত হলেও, জার্মানিকে টাইব্রেকারে বিদায় করা দলটি মাঠে নিজেদের লড়াকু মানসিকতার কমতি রাখেনি। ফিলাডেলফিয়ায় শেষ বাঁশি বাজার পর পর চোখে পড়ার মতো ঘটনা ঘটে। প্যারাগুয়ান গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল সৌজন্যতা বিনিময়ের জন্য ডান হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তার দিকে না তাকিয়েই জয় উদযাপন করেন এমবাপে। পেনাল্টি থেকে তার একমাত্র গোলে ম্যাচটি জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স।
তবে ম্যাচ শেষে ফলাফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে নিজেই। পুরো ম্যাচজুড়ে প্যারাগুয়ের একাধিক খেলোয়াড়ের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হতে দেখা যায়। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও বোঝা যাচ্ছিল, গুস্তাভো আলফারোর শিষ্যরা যেভাবে তাকে কড়া শারীরিক নজরে ও চাপে রেখেছিল, তাতে তিনি বেশ বিরক্ত।
মাঠেই ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ ও কৌশল নিয়ে মুখ খোলেন এমবাপ্পে।
তিনি বলেন, “আমরা আগে থেকেই জানতাম কী ধরনের ম্যাচ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু আজ আমরা দারুণ একটি ম্যাচ খেলেছি। আমরা প্রমাণ করেছি যে আমরা শুধু সুন্দর ফুটবল খেলতে জানি, এমন দল নই। প্রয়োজন হলে আমরা কুৎসিতও হতে পারি; আমার এই শব্দের ব্যবহারের জন্য ক্ষমা করবেন।”

প্রতিপক্ষকে ধুয়ে দিয়ে এমবাপ্পে আরও যোগ করেন, “এ নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তারা ভেবেছিল আমরা শুধু সুন্দর সুন্দর পাস, ওয়ান-টু আর চোখধাঁধানো ফুটবল খেলতে মাঠে নামব। কিন্তু আমরা কুৎসিত ও শারীরিক ফুটবলও খেলতে জানি। আজ আমরা জিতেছি, আর সেই দিক থেকেও আমরা তাদের চেয়ে ভালো ছিলাম।”
কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি দুই বন্ধু
প্যারাগুয়ে বধের পর এবার কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের সামনে শক্তিশালী মরক্কো। যেখানে পিএসজির সাবেক সতীর্থ ও নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আশরাফ হাকিমির মুখোমুখি হতে হবে এমবাপ্পেকে।
বন্ধুত্বকে মাঠের বাইরে রেখে ম্যাচ নিয়েই ভাবছেন ফরাসি তারকা। হাকিমির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় সে ইতোমধ্যেই আমাকে মেসেজ করেছে। তবে এখন আমাদের পুরো মনোযোগ ম্যাচের দিকেই। আমরা জানি মরক্কো খুবই শক্তিশালী দল। তাদের বিপক্ষে খেলতে পেরে আমরা আনন্দিত। পরের ধাপে উঠতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেব।”
আরু/


