বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে ২৪ জুন একটি বিশেষ দিন। ১৯৮৭ সালের এই দিনে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে জন্মগ্রহণ করেন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি। আজ ৩৯ বছরে পা রাখলেন কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ের এই জীবন্ত কিংবদন্তি।
শৈশবে গ্রোথ হরমোনজনিত সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেই ফুটবলে নিজের পথচলা শুরু করেন মেসি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে স্পেনের বিখ্যাত ক্লাব বার্সেলোনার লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় এক অবিশ্বাস্য ফুটবল যাত্রা, যা পরবর্তীতে তাকে বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
বার্সেলোনার জার্সিতে একের পর এক সাফল্য অর্জন করেন মেসি। ক্লাবটির হয়ে জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা, গড়েছেন গোল ও অ্যাসিস্টের অসংখ্য রেকর্ড। ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় রয়েছে রেকর্ড আটটি ব্যালন ডি’অর, ছয়টি ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু এবং অসংখ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব Inter Miami CF-এর হয়ে খেলছেন। ২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তার উপস্থিতিতে ক্লাব ও লিগ—উভয়েরই বিশ্বব্যাপী পরিচিতি বেড়েছে।
তবে মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় নিঃসন্দেহে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়। কাতারে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটান তিনি। সেই সাফল্যের মাধ্যমে তিনি ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরাদের কাতারে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।
বয়সকে যেন প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে চলেছেন মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও তার খেলার মান, পাসিং, ফ্রি-কিক এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করে যাচ্ছে। চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপেও তিনি দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। সম্প্রতি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
আর্জেন্টিনা দলের জন্য মেসির গুরুত্বও অপরিসীম। একাধিক আন্তর্জাতিক ফাইনালে হতাশার মুখ দেখেও তিনি হাল ছাড়েননি। অধ্যবসায়, দৃঢ়তা ও নেতৃত্বগুণের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করেন এবং হয়ে ওঠেন একটি প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।
৩৯তম জন্মদিনে বিশ্বজুড়ে তার ভক্তদের একটাই প্রত্যাশা—আরও কিছুদিন মাঠে থেকে ফুটবলের জাদু ছড়িয়ে যাক মেসির পায়ে। ফুটবল ইতিহাসে পেলে ও দিয়েগো ম্যারাডোনার মতোই স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে তার নাম। ফুটবলের শিল্পকে নতুন মাত্রা দেওয়া এই মহাতারকা এখনও কোটি মানুষের স্বপ্ন, আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীক।
আরু/


