বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে লিওনেল মেসির ট্রফি ক্যাবিনেটে যুক্ত হলো আরও একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। প্রথম ফুটবলার হিসেবে এককভাবে স্পেনের বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ক্রীড়া পুরস্কার’ জিতে অনন্য এক ইতিহাস গড়লেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
মূলত শিল্প, সাহিত্য, সমাজবিজ্ঞান, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য প্রতি বছর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। এবার ক্রীড়া ক্যাটাগরিতে এই অনন্য সম্মান লুফে নিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
মাঠের জাদুকরী পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরের মানবিক কার্যক্রমের জন্য মেসিকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। পুরস্কারটির ফাউন্ডেশন সভাপতি তেরেসা পেরালেসসহ বিচারক প্যানেলের সদস্যদের ভোটে মেসিকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
মেসির নাম ঘোষণার পর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিচারক প্যানেল উল্লেখ করে,“তাঁর অসাধারণ প্রতিভা, ব্যতিক্রমী ক্রীড়া ক্যারিয়ার এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত প্রশংসনীয় মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি শিরোপাজয়ী খেলোয়াড় লিওনেল মেসি মাঠে তাঁর আদর্শ আচরণ, ধারাবাহিকতা, বিনয় এবং দলগত খেলার প্রতি অঙ্গীকারের জন্যও সবার শ্রদ্ধা ও প্রশংসা অর্জন করেছেন।”
এই বিশেষ সম্মাননা পাওয়ার পর জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে অবস্থানরত মেসি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার’ পাওয়ার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে অসংখ্য বার্তা এসেছে। সত্যি বলতে, এই স্বীকৃতি পেয়ে আমি ভীষণ গর্বিত। কারণ এই পুরস্কারের গুরুত্ব অনেক বেশি। আর এটি শুধু মাঠে আমার পারফরম্যান্সের জন্য নয়, মাঠের বাইরের কাজগুলোকেও স্বীকৃতি দিয়েছে। আমি খুবই আনন্দিত এবং কৃতজ্ঞ।”
এর আগে টেনিস কিংবদন্তি রাফায়েল নাদাল, সেরেনা উইলিয়ামস, ফর্মুলা ওয়ানের মিখায়েল শুমাখার এবং ম্যারাথনের এলিউড কিপচোগের মতো কিংবদন্তিরা এই পুরস্কার পেয়েছেন। ফুটবলে ২০১০ সালে স্পেন জাতীয় দল এবং ২০১২ সালে যৌথভাবে শাভি এরনান্দেস ও ইকার ক্যাসিয়াস এই পুরস্কার পেয়েছিলেন। তবে ফুটবলারদের মধ্যে এককভাবে এই কীর্তি শুধু লিওনেল মেসিরই।



