কক্সবাজারের ঐতিহাসিক চকরিয়া-সুন্দরবনের সংরক্ষিত ও রক্ষিত বনভূমি রক্ষা, অবৈধ দখলমুক্তকরণ এবং পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২০ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
রুলে চকরিয়া-সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন থেকে অবমুক্ত (ডি-রিজার্ভ) করার প্রজ্ঞাপনসমূহ এবং বনভূমি পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন সংবিধান, বন আইন ও প্রচলিত আইনের পরিপন্থি, অসাংবিধানিক, বেআইনি, আইনগত কর্তৃত্ববিহীন এবং জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) দায়ের করা একটি জনস্বার্থমূলক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে বেলার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আশরাফ আলী। তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার রুমানা শারমিন।
রিট আবেদনে বলা হয়, একসময় কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে থাকা চকরিয়া-সুন্দরবন দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যানগ্রোভ বনভূমি ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত ইজারা, অবৈধ দখল এবং বিভিন্ন গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডি-রিজার্ভ ঘোষণার ফলে বনটির প্রায় সম্পূর্ণ অংশ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বনভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অতীতে একাধিক নির্দেশনা ও স্মারক জারি করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বন আইন, ১৯২৭ এবং পরিবেশ সংরক্ষণসংক্রান্ত সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটেছে।
এ পরিস্থিতিতে চকরিয়া-সুন্দরবনকে অবৈধ দখল ও ইজারা থেকে মুক্ত করে সম্পূর্ণ বনভূমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বেলা জনস্বার্থে রিট আবেদনটি দায়ের করে।
এ পরিস্থিতিতে চকরিয়া-সুন্দরবনকে অবৈধ দখল ও ইজারা থেকে মুক্ত করে সম্পূর্ণ বনভূমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বেলা জনস্বার্থে রিট আবেদনটি দায়ের করে।
মামলায় বিবাদী করা হয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে। এছাড়া বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম বিভাগের বন সংরক্ষক, কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এবং চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও (ইউএনও) বিবাদী করা হয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, একসময় দেশের একমাত্র উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে পরিচিত চকরিয়া-সুন্দরবন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, উপকূলীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। হাইকোর্টের এ রুল বনভূমি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে নতুন করে আশার সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরু/


