ইসলামী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শাওয়াল মাসের প্রথম দিন পালিত হয় ঈদুল ফিতর, যা পবিত্র রমজান মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার সমাপ্তি এবং আনন্দ-উৎসবের সূচনা করে। এক মাস রোজা রাখার পর মুসলমানদের জন্য এই দিনটি আসে আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ত্যাগের পরিপূর্ণতার প্রতীক হয়ে।
তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ঈদের তারিখ নির্দিষ্টভাবে আগে থেকে নির্ধারণ করা যায় না। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে একদিন বা কখনো কখনো দু’দিনের ব্যবধানেও ঈদ উদযাপিত হতে দেখা যায়। বাংলাদেশেও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদের দিন ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশে শাওয়ালের প্রথম দিনটি জাতীয় সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হয়। এদিন সকালবেলা ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, কোলাকুলি এবং বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবার উপভোগের মাধ্যমে দিনটি কাটে আনন্দঘন পরিবেশে।
ঈদকে কেন্দ্র করে আগের কয়েক সপ্তাহ ধরেই জমে ওঠে কেনাকাটার ধুম। নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী থেকে শুরু করে শিশুদের জন্য নানা উপহার কেনায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে মানুষ। বাজার, শপিংমল ও মার্কেটগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া গ্রামের বাড়িতে ফেরা, প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে ঈদ হয়ে ওঠে মিলনমেলার এক অনন্য উপলক্ষ।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে ২১ মার্চ, শনিবার। ইসলামী চান্দ্রবর্ষ সৌর বছরের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন ছোট হওয়ায় প্রতি বছরই ঈদের তারিখ এগিয়ে আসে। সে হিসেবে আগামী ২০২৭ সালে ঈদুল ফিতর সম্ভাব্যভাবে মার্চের প্রথমার্ধে পালিত হতে পারে, যদিও চাঁদ দেখার ওপরই চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে।
এদিকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এখন থেকেই আগামী রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে মানসিক ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ভাবছেন। অনেকেই ইবাদতে আরও মনোযোগী হওয়া, দান-সদকা বৃদ্ধি করা এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলার সংকল্প করছেন।
ঈদ শুধু একটি উৎসব নয়—এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য একতা, ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও আনন্দ ভাগাভাগির এক মহৎ উপলক্ষ।



