চট্টগ্রামের আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৮৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বাদী কফিল উদ্দিন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট নগরের নিউ মার্কেট এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় হামলায় আহত হওয়ার অভিযোগে তিনি মামলাটি করেছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর মামলার ধার্য তারিখে কফিল উদ্দিন মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটির কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন।
বিষয়টি বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে প্রকাশ্যে আসে।
চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার জিআরও শাখায় কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব ছিল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ওপর। বাদীর আবেদনের পর আদালত মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে মামলাটি করেন কফিল উদ্দিন। আদালত তার বক্তব্য গ্রহণ করে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক সিএমপি কমিশনার সাইফুল ইসলামসহ ২৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছিল।
এ ছাড়া মামলার আসামিদের তালিকায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, সাবেক কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, ওয়াসিম উদ্দিন ও মোবারক আলীসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নাম ছিল।
মামলাটি দায়েরের সময় কফিল উদ্দিনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাকে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক উপ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের অনুসারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট নিউ মার্কেট এলাকায় আন্দোলনের সময় আহত হওয়ার অভিযোগ তুলে কফিল উদ্দিন আদালতে মামলাটি করেছিলেন। ওই মামলায় ১৮৭ জনকে আসামি করা হলেও এখন বাদীর আবেদনেই আদালতের আদেশে মামলাটির কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে।
আরু|



