টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি আদায়ে তারা বুধবার (১৫ জুলাই) ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টার এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দাবি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আলটিমেটাম দেন। কর্মসূচি ঘোষণা শেষে আন্দোলনকারীরা সড়ক ছেড়ে যান।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত সব পরীক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করেনি। তাই দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় অনুষ্ঠিত পরীক্ষা স্থগিত, অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান তারা।
এদিকে একই দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীরা নীলক্ষেত থেকে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান নিলে সেখানে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন। ঘটনাস্থলের এক পাশে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদেরও অবস্থান করতে দেখা গেছে।
এর আগে সোমবার রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে টিএসসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এরপর আন্দোলনকারীরা নীলক্ষেত-টিএসসি সড়কে গিয়ে পুনরায় অবস্থান নেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যান।
অবিরাম কর্মসূচি ও নতুন ঘোষণা আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন সবার নজর বুধবারের ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির দিকে। এ কর্মসূচিকে ঘিরে সরকার নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেয় কি না এবং আন্দোলনের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি কী হয়, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
আরু/


