দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান শুরুর আগেই গণমাধ্যমের সামনে কোনো অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ এমন বক্তব্য দেওয়া ও তা প্রচারের আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পক্ষে সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করা হয়।
রিটে অনুসন্ধান বা তদন্তাধীন কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অতীতে দুদকের পক্ষ থেকে দেওয়া এ ধরনের বক্তব্য সমগুরুত্ব দিয়ে গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও আবেদন করা হয়েছে।
সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় দায়ের করা এ রিট পিটিশনের নম্বর ১৩৮৮৫/২০২৬। এতে দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) ও সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা)কে বিবাদী করা হয়েছে। আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা রিটটি দাখিল করেন।
রিট আবেদনে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে কমিশনের উপপরিচালক জানান, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়’ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে রিটে দাবি করা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী কোনো অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পর নির্ধারণের বিষয়। অনুসন্ধান শুরুর আগেই এ ধরনের মন্তব্য করার আইনগত এখতিয়ার কমিশনের কর্মকর্তাদের নেই।
আবেদনে আরও বলা হয়, ওই বক্তব্যের পর ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের সচিব সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিষয়টি অসাবধানতাবশত বলা বা ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বলে মন্তব্য করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও সাংবাদিকদের বার্তা আদান-প্রদানের একটি গ্রুপে এটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে স্বীকার করেন। তবে পরবর্তীতে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কোনো আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি।
এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও তা আমলে না নিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের এক সহকারী পরিচালক আরেকটি ব্রিফিং করেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ব্রিফিংয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক নিয়োগ, জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়ন, ওয়াসা, এলজিইডি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র এবং বিদেশে অর্থপাচারসহ আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক নতুন অভিযোগের কথা বলা হয়।
রিট আবেদনে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের আলোকে প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির বিষয়টি আসিফ মাহমুদের পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর, ১১ মে ২০২৬ কার্যকর হয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর পদত্যাগের তারিখ ছিল ১১ ডিসেম্বর ২০২৫। ফলে ওই পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় তাঁর সম্পৃক্ত থাকার কোনো আইনগত বা বাস্তবিক সুযোগ নেই বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
রিটে আরও অভিযোগ করা হয়, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর আসিফ মাহমুদের সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানো হচ্ছে। দুদকের কর্মকর্তাদের এমন আচরণ সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে দেওয়া মৌলিক অধিকার এবং দুদকের ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১’-এর লঙ্ঘন বলেও রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরু|



