ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক ও বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ি আবাসিক প্রকল্পে থাকা ‘জয়িতা’ ভবনে তল্লাশি চালিয়ে ‘সাদা স্বর্ণ’ (হোয়াইট গোল্ড) দিয়ে তৈরি অলঙ্কার, মূল্যবান আসবাবপত্র, ব্যাংকের চেকবই, মানি রিসিট, পোশাকসহ বিপুল পরিমাণ অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাথমিকভাবে এসব সম্পদের মূল্য শত কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার ও মঙ্গলবার (২১-২২ জুলাই) দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল জলসিঁড়ি আবাসিক প্রকল্পের ‘জয়িতা’ ভবনের ৮ম ও ৯ম তলার ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইনভেন্টরির কাজ পরিচালনা করে।
দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে জব্দ করা সম্পদের তালিকা (ইনভেন্টরি) প্রস্তুতের কাজ চলছে। অভিযান শেষ হলেও যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়ায় এখনই বিস্তারিত প্রকাশ করা হচ্ছে না। চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সব তথ্য জানানো হবে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া অলঙ্কারের মধ্যে স্বর্ণ ও হোয়াইট গোল্ডের তৈরি গহনা রয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় এগুলো আসল বলেই নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া ফ্ল্যাটে থাকা মূল্যবান আসবাব, বিভিন্ন আর্থিক নথিপত্র ও অন্যান্য সামগ্রীরও তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি আদালত জিয়াউল আহসান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে জব্দ (অ্যাটাচড) করা স্থাবর সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগকে ‘রিসিভার’ (তত্ত্বাবধায়ক) হিসেবে নিয়োগ দেন। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম এ আবেদন করেছিলেন।
দুদক ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে। মামলায় প্রায় ৪০ কোটি ৮৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৩৪২ কোটি টাকার অস্বাভাবিক ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়।
অনুসন্ধানে দুদক দাবি করেছে, জিয়াউল আহসানের নামে ঢাকায় পাঁচটি বাড়ি (এর মধ্যে একটি আটতলা ভবন), একটি বাগানবাড়ি, তিনটি ফ্ল্যাট, প্রায় ৩ হাজার ৩৩ দশমিক ৫১ শতাংশ জমি, দুটি জিপ গাড়ি, শেয়ারবাজারে প্রায় ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ, ১ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ব্যাংকে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমার তথ্য পাওয়া গেছে। তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের নামেও প্লট ও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের তথ্য রয়েছে।
এছাড়া দুদকের অনুসন্ধানে জিয়াউল আহসানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে শত শত কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, দুবাই, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল অর্থ পাচার করা হয়েছে।
দুদকের তথ্যমতে, জিয়াউল আহসান ২০১৭ সালে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এবং ওই দেশের বিনিয়োগ কর্মসূচির আওতায় কয়েক লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেন। এছাড়া বিদেশে বন্ডে বিনিয়োগ ও অর্থ পাচারের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠন করে দুদক। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংক তার, তার স্ত্রী-সন্তান এবং তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করে।
দুদক জানিয়েছে, ইনভেন্টরি কার্যক্রম সম্পন্ন ও যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পর জব্দ করা সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
আরু/


