রফিকুল ইসলাম রফিক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের সর্বত্রই ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষজন। গত দুদিন থেকে কুড়িগ্রামে ঘন কুয়াশায় সকাল ১০টা পর্যন্ত ঢাকা এলাকার পথঘাট। সঙ্গে বইছে উত্তরের হিমেল হাওয়া। শীতের তীব্রতায় হাত পা বরফ হয়ে আসছে খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষের। তবুও থেমে নেই তারা। এযেন মরার উপর খড়ার ঘা। ঘন কুয়াশার অনুভূত হচ্ছে এ জেলায়। কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে সড়কে চলছে যানবাহন। শীত বাড়ায় দুর্ভোগে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পরছে শিশু ও বৃদ্ধরা।
সোমবার (১ জানুয়ারি) সকালে এ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত দুদিন থেকে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ধ্যা নামলেই কমতে শুরু করে তাপমাত্রা। রাতভর থাকে তীব্র শীতের প্রকোপ। সকালে হিমেল হাওয়া আর বৃষ্টির মতো ঝরে পড়া শীতে কাহেল হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া দিন মুজুর মানুষজন। এমন কুয়াশায় চলতি ইরি মৌসুমের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চিলমারী জোড়গাছ এলাকার কৃষক শাহজাহান আলী বলেন, এতো শীতের তীব্রতায় ইরি ধানের বীজতলা লাল ও বাদামি রং ধারণ করে মরে যেতে পারে। কুয়াশা আর কদিন থাকলে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাবে।
রিক্সা চালক আঃ আজিজ বলেন, ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসে হাত পা অবস হয়ে আসছে। এ অবস্হায় রিক্সা চালানো কষ্টকর হয়ে পরেছে। কি করবো আমরা বসে থাকলে পরিবার বাছবে কি করে। অনেক বেলা পর্যন্ত হেডলাইট জ্বালিয়ে সড়কে চলতে হয় তাদের। তাছাড়া বাড়তি শীতে যাত্রীও কমে গেছে।
দিনমজুর জালাল উদ্দিন জানান, শীত আর কুয়াশা থাকায় সকাল সকাল কাজে যোগ দিতে পারছেন না তারা। বেলা অনেকটা বেরে যাওয়ার পর কাজে যেতে হচ্ছে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, জেলায় আগামীতে তাপমাত্রা আরো নিম্নগামী হবে। তবে আগামীকাল বলা যাবে কবে নাগাদ শৈত্য প্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক সাইদুল আরীফ বলেন, ইতিমধ্যে শীতার্ত মানুষের মাঝে প্রায় ৪২ হাজার পিচ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
আরো ১০ হাজার পিচ কম্বল মজুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।


