জহিরুল ইসলাম সুমন কুমিল্লা প্রতিনিধি :
গত ১৬ আগষ্ট তিতাস থানার কলাকান্দি গ্রামের জনৈক খোরশেদা আক্তার (৪০), তার শিশু ছেলে সায়মন (৭) কে খুঁজে না পেয়ে প্রতিবেশী ও আত্নীয় স্বজনদের জানান। তারপর সবাই মিলে এদিক ওদিক খোঁজাখুঁজি করে না পাওয়ায়, এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার করেন। পরবর্তীতে গত ১৯ আগষ্ট সকাল অনুমান ১১ঃ০০ ঘটিকার সময় কড়িকান্দি ইউনিয়নের কলাকান্দি বালুর মাঠের কাশঁ বনের ঝোপের মধ্যে স্থানীয় লোকজন শিশু সায়মন এর অর্ধগলিত লাশ দেখতে পায়। এ সংক্রান্তে খোরশেদা আক্তার তিতাস থানার মামলা ২০ আগষ্ট মামলা করেন।
উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার, কুমিল্লা মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কুমিল্লা ও তিতাস থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি চৌকস টিম তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে স্থানীয় সোর্স ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষন করে এই ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এর ফলশ্রুতিতে স্থানীয় সোর্স ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এই চৌকস টিমটি ৩০ ডিসেম্বর এ ঘটনার সাথে জড়িত মূল ঘাতক মোঃ বিল্লাল পাঠান(৪২), পিতা- মোঃ খেলু পাঠান কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত হত্যাকান্ডে সে এবং এই মামলার এজাহারনামীয় আসামী শেফালী আক্তার(৪২), স্বামী- জামাল মিয়া জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সে জানায় যে, শেফালী আক্তার সম্পর্কে তার জেঠস (স্ত্রীর বড় বোন) এবং শেফালীর স্বামী প্রবাসী হওয়ায় তাদের মাঝে একটা অবৈধ পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক হয়। উক্ত সম্পর্কের প্রেক্ষিতে ঘটনার দিন গত ১৬ আগষ্ট বিল্লাল পাঠান ও শেফালী অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়। তাদের এই অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকা অবস্থায় ঐ বাড়িতে খেলতে যাওয়া শিশু সায়মন তাদেরকে নগ্ন অবস্থায় দেখে ফেলে। এবং সায়মন বলে যে, ‘‘দেইখা ফালাইছি হগলরে কইয়া দিমু।’’ শিশু সায়মনের এমন কথা শুনে বিল্লাল আতঙ্কিত হয়ে সায়মনের গলা ও মুখ চেপে ধরে। একই সাথে সায়মন যেনো এই কথা কাউকে জানাতে না পারে এটি নিশ্চিত করার জন্য হত্যার পরিকল্পনা করে এবং শেফালী তার ঘরে থাকা আলমারীর উপর থেকে ছুরি এনে দিলে আসামী বিল্লাল শিশু সায়মনের বুকের দুই পাশে ৩/৪টি গভীর ছুরিকাঘাত করে। অতঃপর নৃশংসতার সাথে শিশু সায়মনের মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর আসামী বিল্লাল ও শেফালী ঘরে থাকা প্লাষ্টিকের বস্তায় সায়মনের লাশ ঢুকিয়ে খাটের নিচে রেখে দেয়। এবং রাত অনুমান ১২ঘটিকার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশে বালুর মাঠে কাশঁবনের ঝোপের মধ্যে বস্তাবন্দী লাশ ফেলে দিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসে। উল্লেখ্য যে, ইতোমধ্যে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা প্লাষ্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপরিউক্ত আসামীদের সম্পৃক্ততার সমর্থনে আনসর আলী ও শাহ আলম নামে দুইজন ব্যাক্তি সাক্ষী হিসেবে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।
উল্লেখ্য যে, আসামী শেফালী আক্তার কে গত ২০আগষ্ট ডিবির একটি চৌকস টিম তিতাস থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়।উল্লেখ্য যে, গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ বিল্লাল পাঠান এর নামে ০২টি মারামারির মামলা রয়েছে।


