খন্দকার মহিবুল হক, কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
দুর্নীতি প্রতিরোধে টেকসই উন্নয়ন, শান্তি, নিরাপত্তা ও সুশাসন: এর চর্চা অপরিহার্য জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা।
‘উন্নয়ন,শান্তি ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে দুর্নীতির আমরা বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ’ এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে
হিসেবে কুমিল্লায় মানববন্ধন ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গতকাল ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদযাপিত হয়। কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশন’র সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি’র যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধিবৃন্দ একাত্মতা প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন কর্মসূচীর পর বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপি কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক খন্দকার মোঃ মুশফিকুর রহমান। পরে জেলা প্রশাসন মিলনায়তনে জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির
সভাপতি প্রবীন শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আমীর আলী চৌধুরী সভাপতিত্বে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লার সভাপতি রোকেয়া বেগম শেফালীর স্বাগত বক্তব্যে মাধ্যমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক খন্দকার মো: মুশফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের যে মহাসড়কে রয়েছে তা আরো টেকসই করার লক্ষ্যে গণতন্ত্র ও সুশাসন চর্চার মাধ্যমে দুর্নীতিকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। এই ক্ষেত্রে আমাদের সকলের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি দেশের প্রান্তিক জনগণ
দুর্নীতির সাথে জড়িত নয় বলে উল্লেক করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান, বিপিএম (বার) বলেন, দুর্নীতি হল নীতির বিপরীতে যা থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলে, দুর্নীতি আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছে, আমাদের এত রক্ত দিয়ে কেনা দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সবাইকে আন্তরিক ভাবে কাজ করতে হবে। আইনের বেড়াজাল দিয়ে সাদা রঙের দুর্নীতিবাজদের ধরা যায় না, প্রয়োজন জনসচেতনতা। ২০৪১ সালে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ হওয়ার যে লক্ষ্য, সেটি অর্জনের জন্য দুর্নীতিকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। মূখ্য আলোচক হিসেবে দুদক কুমিল্লার সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো:
ফজলুল হক বলেন, সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ দুর্নীতি নামক ভয়াল থাবায় আক্রান্ত, দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রন করতে হলে উপরের স্থর থেকে করতে হবে।
গত দশ বছরে বাংলাদেশের অনেক উন্নতি হয়েছে, এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য টেকসই উন্নয়নের উপর আমাদের জোর দিতে হবে।
তিনি তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানা এবং তাদেরকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একসাথে রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানান। অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রবীন শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আমীর আলী চৌধুরী সরকারি ও বেসরকারি সম্বন্বিত উদ্যোগের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই দেশ দুর্নীতির কারণে পিছিয়ে থাকবে না। সুশাসনের চাহিদাকে আরো জোরালো করে একটি কার্যকর দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের জন্য তরুণ প্রজন্মসহ সকলের প্রতি আহবান জানান। তিনি সরকারের এই সিদ্ধান্তের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে এ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত দুর্নীতি প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের প্রদত্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। জেলা কালচারাল অফিসার সৈয়দ মুহাম্মদ আয়াজ মাবুদ এর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সিভিল সার্জন ডা: নাছিমা আক্তার, সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. গোলাম ফারুক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক জেলা পরিষদের প্রশাসক ওমর ফারুক, দুপ্রক কুমিল্লার সহ-সভাপতি অধ্যাপক শান্তিরঞ্জন ভৌমিক, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শাহ মো: আলমগীর খাঁন, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির
সদস্য আবুল হাসনাত বাবুল প্রমূখ। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, আইনজীবি, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।


