মোঃ সাইফুল ইসলাম তানভীর (সিংগাইর-মানিকগঞ্জ।)
নৌকা বাইচ দেখে বাড়ি ফেরা হলোনা মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার দুই স্কুল ছাত্রের। উপজেলার সীমান্তবর্তী কালীগঙ্গা নদীতে নৌকাবাইচ দেখতে গিয়ে নৌকা ডুবিতে সিফাত হোসেন (১৬) ও ওয়াসিম(১৭) নামের দু’স্কুল ছাত্র নিখোঁজের পর রবিবার ও সোমবার তাদের লাশ উদ্ধার করা হয় । সোমবার (২অক্টোবর) ওই দুই ছাত্রের লাশ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে গত শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিংগাইর উপজেলার সীমান্তবর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের পাতিলঝাপে কালীগঙ্গা নদীতে এ নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে।
নিহত সিফাত হোসেন উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের প্রবাসী নুরুল ইসলাম ওরফে মান্নানের ছেলে ও ওয়াসিম লক্ষীপুর গ্রামে তোফাজ্জলের ছেলে। তারা দু’জনই সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে সিংগাইর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের পাতিলঝাপের কালীগঙ্গা নদীতে স্থানীয়দের উদ্যোগে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়। বরাবরের মতো নৌকাবাইচ দেখতে বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার দর্শকের সমাগম ঘটে। এদিন সিংগাইর উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সিফাত ও ওয়াসিমসহ ২০-২৫ জন বন্ধু নিয়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে বাইচ দেখতে যায়। এসময় নৌকা বাইচ আয়োজক কমিটির ট্রলারের ধাক্কায় নিহতদের ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে সিফাতসহ ৭-৮ জন যাত্রী নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের লোকজন ওই দিনগত রাতে অনেক খোজাখুজি করে ২ জন ছাড়া বাকীদের উদ্ধার করা হলেও লক্ষীপুর গ্রামে ওয়াসিম ও শ্যামনগর গ্রামের সিফাতের খোঁজ মেলেনা। পরদিন রবিবার বিকেল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ওয়াসিমের লাশ উদ্ধার করেন। সোমবার সকাল ৮ টার দিকে জানাযা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
অপর দিকে নিহত সিফাতের মামা চারিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান রিপন হোসেন জানান, রবিবার সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দলসহ আমরা সারা দিন নদীতে অনেক খোঁজাখুজি করেও সিফাতের কোন সন্ধান পাইনি। পরে রাত ৮ টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল অভিযান শেষ করেন। এরপর সোমবার (২ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ এলাকার জিয়ানগর বস্তির ঘাটে সিফাতের লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা আমাদের খবর দিলে লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসি। সোমবার সকাল ১০ টায় শ্যামনগর কেন্দ্রিয় কবরস্থানে নামাযে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।


